বি.দ্রঃদৈনিক নতুন ভাবনাপত্রিকায় প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার সম্পূর্ন লেখকের/প্রতিনিধির।আমরা লেখক প্রতিনিধির চিন্তা ও মতামতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল।প্রকাশিত লেখার সাথে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল সবসময় নাও থাকতে পারে।তাই যে কোনো লেখার জন্য অত্র পত্রিকার কর্তৃপক্ষ দায়ী নয়।

তাজা খবর

আজ পাইকগাছার কপিলমুনিতে আসছেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী মোজাম্মেল হক

ইমদাদুল হক,পাইকগাছা,খুলনাঃ-
আজ ৯ ডিসেম্বর ঐতিহাসিক কপিলমুনি মুক্ত দিবস উপলক্ষে খুলনার পাইকগাছাতে আসছেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক
মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক। সফরকালে মন্ত্রীর সঙ্গে এলাকার দুই কৃতি সন্তান জনপ্রশাসন সচিব শেখ ইউসুফ
হারুন ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সচিব তপন কান্তি ঘোষসহ সরকারের অন্যান্য উচপদস্ত কর্মকর্তারা উপস্থিত থাকবেন বলে
জানাগেছে। মমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে উপজেলার কপিলমুনিতে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ
করা হয়েছে। ইতামধ্যে মন্ত্রীর সফরসূচী হাতে পেয়েছেন বলে জানিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার এবিএম
খালিদ হোসেন সিদ্দিকী। ইউএনও খালিদ হোসেন জানান, এদিনে মন্ত্রী ঐতিহাসিক যুদ্ধক্ষেত্র কপিলমুনিতে
মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি কমপ্লেক্স এর শুভ উদ্বোধন করবেন। এছাড়া মন্ত্রী মহাদয় কপিলমুনি স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তর্বক
অর্পন, মহান মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময় রাজাকার ক্যাম্প হিসাবে ব্যবহৃত রায় সাহেব বিনোদ বিহারী সাধুর
বসতবাড়ি পরিদর্শন করবেন। বিকাল ৩টায় কপিলমুনি সহচরী বিদ্যা মন্দির মাঠে কপিলমুনি মুক্ত দিবস উপলক্ষে
আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসাবে বক্তব্য রাখবেন। এছাড়াও মন্ত্রী মহাদয় ঐতিহ্যবাহী
মাহমুদকাটী অনির্বাণ লাইব্রেরী পরিদর্শন করবেন।
উল্লেখ্য, ১৯৭১ সালের ৯ ডিসেম্বর খুলনা জেলার পাইকগাছা উপজেলার কপিলমুনিতে মুক্তিযোদ্ধাদের কাছে
আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য হয়েছিলো রাজাকার বাহিনী। যুদ্ধ শেষে মুক্তিযোদ্ধারা আটক করেন ১৫৫ জন রাজাকার ও
যুদ্ধাপরাধীকে। রাজাকার ঘাঁটি থেকে উদ্ধারকৃত বিভিন্ন কাগজপত্রের সাথে পাওয়া যায় রাজাকারদের হাতে লেখা এক
হাজার ৬০১ জন শহীদের তালিকা। রাজাকারদের পরবর্তী টার্গেট হিসাবে এলাকার সহস্রধিক বিভিন্ন
শ্রেণিপেশার মানুষের তালিকা পাওয়া যায়। আর পাওয়া যায় দয়াল সৈয়দ আলী গাজীর ঝুলান্ত মৃতুদেহ। এই খবরে
ফুঁসে ওঠে এলাকার সর্বস্তরের মানুষ। এদিনেই কপিলমুনি হাই স্কুল মাঠেই বসে জনতার আদালত। গণআদালতের রায়
মৃত্যুদন্ড কার্যকর করা হয় ১৫১ জন রাজাকারের। মুক্তিযুদ্ধকালে গণআদালতের রায়ের মাধ্যমে এক সঙ্গে দেড় শতাধিক
রাজাকারের শাস্তি দেওয়া মহান মুক্তিযুদ্ধের ঐতিহাসিক একটি ঘটনা। অথচ স্বাধীনতা যুদ্ধের এই ঐতিহাসিক
ঘটনার যথাযথ স্বীকৃতি মেলেনি এবং সেখানকার স্মৃতি সংরক্ষণে তেমন কোন কার্যকর উদ্যোগ নিতে দেখা
যায়নি। দীর্ঘ প্রতিক্ষারপর হলেও এলাকাবাসীর দাবির প্রেক্ষিতে বর্তমান সরকার কপিলমুনি মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি
সংরক্ষণ এবং গণআদালতের রায় কার্যকরের ঐতিহাসিক স্থান সংরক্ষণের উদ্যোগ নেওয়ায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা
এবং মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী, স্থানীয় এমপি, এলাকার দুই সচিব সহ স্থানীয় প্রশাসনকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন
এলাকাবাসী।

Alert! This website content is protected!