বি.দ্রঃদৈনিক নতুন ভাবনাপত্রিকায় প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার সম্পূর্ন লেখকের/প্রতিনিধির।আমরা লেখক প্রতিনিধির চিন্তা ও মতামতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল।প্রকাশিত লেখার সাথে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল সবসময় নাও থাকতে পারে।তাই যে কোনো লেখার জন্য অত্র পত্রিকার কর্তৃপক্ষ দায়ী নয়।

তাজা খবর

আন্তর্জাতিক নারী দিবস

নতুন ভাবনা ডেস্কঃ

ফিনফিনে কাপড়ের ভাজেঁ,খোঁজে ফেরো নারী।কখনও মানুষ ভেবে সুযোগ
দিও!দেখবে আমিও পারি।" আজ ৮ ই মার্চ আন্তর্জাতিক নারী দিবস।
সারাবিশ্বের মতো বাংলাদেশেও যথাযোগ্য মর্যাদায় দিবসটি পালন করা হয় ।
এবার নারী দিবসের প্রতিপাদ্য- ‘করোনাকালে নারী নেতৃত্ব, গড়বে নতুন
সমতার বিশ্ব’।
নারীদের ওপর হওয়া বৈষম্য, নির্যাতনের বিরুদ্ধে করা প্রতিবাদে নারীদের
জাগ্রত করাই নারী দিবস পালনের মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য। নারী দিবসের রং
নির্ধারিত হয়েছে বেগুনি ও সাদা। এ দুটি রং নির্দেশ করে সুবিচার ও মর্যাদা, যা
দৃঢ়ভাবে নারীর সমতায়ন।

এই দিবসটি উদযাপনের পেছনে রয়েছে নারী শ্রমিকের অধিকার আদায়ের
সংগ্রামের ইতিহাস। ১৮৫৭ খ্রিস্টাব্দে মজুরিবৈষম্য, কর্মঘণ্টা নির্দিষ্ট করা,
কাজের অমানবিক পরিবেশের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে মার্কিন
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের রাস্তায় নেমেছিলেন সুতা কারখানার নারী শ্রমিকেরা।
সেই মিছিলে চলে সরকার লেঠেল বাহিনীর দমন-পীড়ন। ১৯০৯ সালের ২৮
ফেব্রুয়ারি নিউইয়র্কের সোশ্যাল ডেমোক্র্যাট নারী সংগঠনের পক্ষ থেকে
আয়োজিত নারী সমাবেশে জার্মান সমাজতান্ত্রিক নেত্রী ক্লারা
জেটকিনের নেতৃত্বে সর্বপ্রথম আন্তর্জাতিক নারী সম্মেলন হলো। ক্লারা
ছিলেন জার্মান রাজনীতিবিদ; জার্মান কমিউনিস্ট পার্টির স্থপতিদের একজন।
এরপর ১৯১০ খ্রিস্টাব্দে ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে অনুষ্ঠিত হয় দ্বিতীয়
আন্তর্জাতিক নারী সম্মেলন। ১৭টি দেশ থেকে ১০০ জন নারী প্রতিনিধি এতে
যোগ দিয়েছিলেন। এ সম্মেলনে ক্লারা প্রতি বৎসর ৮ মার্চকে আন্তর্জাতিক
নারী দিবস হিসেবে পালন করার প্রস্তাব দেন। সিদ্ধান্ত হয়ঃ ১৯১১ খ্রিস্টাব্দ
থেকে নারীদের সম-অধিকার দিবস হিসেবে দিনটি পালিত হবে। দিবসটি
পালনে এগিয়ে আসে বিভিন্ন দেশের সমাজতন্ত্রীরা। ১৯১৪ খ্রিস্টাব্দ থেকে বেশ

কয়েকটি দেশে ৮ মার্চ পালিত হতে লাগল। বাংলাদেশেও ১৯৭১ খ্রিস্টাব্দে
স্বাধীনতার লাভের পূর্ব থেকেই এই দিবসটি পালিত হতে শুরু করে। অতঃপর
১৯৭৫ খ্রিস্টাব্দে ৮ মার্চকে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি প্রদান করা হয়। দিবসটি
পালনের জন্য বিভিন্ন রাষ্ট্রকে আহ্বান জানায় জাতিসংঘ। এরপর থেকে সারা
পৃথিবী জুড়েই পালিত হচ্ছে দিনটি নারীর সমঅধিকার আদায়ের প্রত্যয়
পুনর্ব্যক্ত করার অভীপ্সা নিয়ে।

একজন নারী কে প্রতিটি পরিবারের স্তম্ভ হিসেবে বিবেচনা করা যায়। নারীদের
ভূমিকা ছাড়া কোনো পরিবার সুসংগঠিত হতে পারে না।
কিন্তু নারীরা কি সব পরিবার ও বাইরে যাথার্থ্য সম্মান পায়। নারীদের
অধিকার আদায়ে প্রতিটি দেশেই এই দিবস পালন করা হলেও তা সমাজ ও
রাষ্ট্রের মধ্যে কতটুকু প্রভাব ফেলে?
এসব বিষয়ে শুধু যে নারী রা হস্তক্ষেপ করলে হবে না তা স্পষ্ট। সবার আগে
পুরুষদের মনুষ্যত্ব বিকাশ করা জরুরি। সমাজ ও রাষ্ট্রের লোকজনের যখন
বিবেক শক্তি জাগ্রত হবে তখন তা প্রতিহত করা সম্ভব। নারী–পুরুষ ঐক্য
প্রচেষ্টায় সুশীল সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব। অসমতার চিন্তা থেকে সমতার
ভাবনায় আসতে নারী-পুরুষ উভয়ের আত্ম-সচেতন হতে হবে।
একজন নারী কোনো প্রত্যাশা ছাড়াই সারা জীবন সংসারের কর্তব্য পালন
কর। তাই, সকল নারীর প্রতি রইলো শুভকামনা।

লেখকঃমাসুদ রানা
শিক্ষার্থী, রয়েল মিডিয়া কলেজ, ময়মনসিংহ।
সদস্য,জামালপুর –৩ আসন,
বাংলাদেশ প্রজন্ম সংসদ।
মোবাইল-০১৬৪৩৮৩৯২৬৮
ই-মেইল[email protected]gmail.com

Alert! This website content is protected!