বি.দ্রঃদৈনিক নতুন ভাবনাপত্রিকায় প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার সম্পূর্ন লেখকের/প্রতিনিধির।আমরা লেখক প্রতিনিধির চিন্তা ও মতামতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল।প্রকাশিত লেখার সাথে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল সবসময় নাও থাকতে পারে।তাই যে কোনো লেখার জন্য অত্র পত্রিকার কর্তৃপক্ষ দায়ী নয়।

তাজা খবর

উল্লাপাড়ার কয়ড়া ইউনিয়নে কর্মসৃজন প্রকল্পে হরিলুট

মোঃ আজাদুল ইসলাম, সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধিঃ  সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার কয়ড়া ইউনিয়নে কর্মসৃজন প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়ম ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। আর এ অনিয়মের সঙ্গে সরাসরি জড়িয়ে পড়েছে ইউপি চেয়ারম্যান-মেম্বার ও কতিপয় কর্মকর্তারা। কর্মহীন শ্রমজীবিদের জন্য কাজের সুযোগ তৈরির লক্ষ্যে ৪০ দিনের কর্মসৃজন প্রকল্প চালু করেছে সরকার। তবে বঞ্চিত অসহায়দের তালিকায় প্রভাবশালী (ভিআইপি শ্রমিক) ভূয়া নাম অন্তর্ভুক্ত করারও অভিযোগ উঠেছে।
উপজেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, মাঠে কাজ না থাকায় কর্মহীন প্রান্তিক শ্রমজীবি মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে ৪০ দিনের জন্য কর্মসৃজন প্রকল্পের কাজ শুরু হয়। এতে সপ্তাহে পাঁচদিন সরকারী ভাবে গৃহীত বিভিন্ন প্রকল্পে মাটি কাটার কথা। যা গত ২০১৯-২০ অর্থ বছরের মার্চে শুরু হলেও কিছুদিন কাজ করার পর করোনা প্রভাবে প্রকল্পটি বন্ধ হয়ে যায়। তবে প্রকল্প টির বাকি কাজ নভেম্বর মাসেই শেষ হয়। উপজেলার ১৪ টি ইউনিয়নে মোট ৪২ টি প্রকল্পের আওতায় ৩ হাজার ৩৯৪ জন তালিকাভুক্ত শ্রমিকের অনুকুলে ২ কোটি ৭১ লক্ষ ৫২ হাজার টাকা বরাদ্দ হয়েছে। ৪০ দিন কাজের বিনিময়ে প্রত্যেক শ্রমিক ৮ হাজার টাকা করে পারিশ্রমিক পাওয়ার কথা।
প্রকল্প চলাকালীন (৩০ নভেম্বরের আগে) সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, কয়ড়া ইউনিয়নের রশিদ মেম্বারের বাড়ি থেকে জয়নব মেম্বারের বাড়ী পর্যন্ত রাস্তা নির্মাণে ৭৫ জন শ্রমিকের জন্য ৬ লক্ষ টাকা বরাদ্দ আসে। এই রাস্তায় ৭৫ জন শ্রমিকের জায়গায় ১৮ জন শ্রমিককে কাজ করতে দেখা গেছে। এখানে দায়িত্বে থাকা জয়নব মেম্বার জানান এই প্রকল্পে শুরু থেকে ১৮ জন কাজ করছে, বাকি গুলো ভিআইপি। ইউপি সদস্য জয়নবের কাছে কাছে ভিআইপি শ্রমিক কারা জানতে চাইলে তিনি জানান এ বিষয়ে ইউপি চেয়ারম্যান ভালো বলতে পারবে।
অন্য একটি প্রকল্পে কয়ড়া হোরপাড়া মসজিদ থেকে পূর্বপাড়া পর্যন্ত রাস্তা নির্মাণে ৬ লক্ষ টাকা বরাদ্দ হয়। এখানে ৭৫ জন শ্রমিকের কাজ করার কথা থাকলেও একজনেও ওখানে পাওয়া যায়নি। এই এলাকার স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায় ইউপি চেয়ারম্যান যে প্রকল্প দেখিয়েছেন এখানে রাস্তা নির্মাণের কোন কাজ করা হয়নি। তবে কয়ড়া সড়াসতলা গ্রামে ২০ জন কে কাজ করতে দেখা গিয়েছে। কয়ড়া বাঘলপুর ছাত্তার মোল্লার বাড়ি থেকে বিলঘাট পর্যন্ত রাস্তা নির্মাণে ৬ লাখ ৪০ হাজার টাকা বরাদ্দ হয়। এখানে ৮০ জন শ্রমিকের কাজ করার কথা থাকলেও বাস্তবে দেখা গেছে ভিন্ন চিত্র।
এখানে কোন কাজ করা হয়নি। বাঘলপুর গ্রামের ছাত্তার মোল্লার ছেলে হাফিজুর রহমান জানান এই প্রকল্পে কোন কাজ করা হয়নি। কর্মরত শ্রমিকরা জানান প্রথম থেকে ওইদিন পর্যন্ত তারা এই প্রকল্পে এই কয়জনই কাজ করে আসছেন। কয়ড়া ইউনিয়নে রাস্তা নির্মাণের জন্য ২৩০ জন শ্রমিকের ১৮ লাখ ৪০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। বাস্তবে উল্টো চিত্র, কয়ড়া ইউনিয়নে ৩ টি প্রকল্প মিলে মোট ২৩০ জন শ্রমিক কাজ করার কথা থাকলেও কাজ করতে দেখা যায় ৫৮ জন কে। প্রকল্প এলাকায় প্রকল্পের তথ্য সংশ্লিষ্ট সাইনবোর্ড থাকার কথা।
প্রকল্পের কার্যদিবস শেষ হলেও উপজেলার কোথাও প্রকল্পের কোন সাইনবোর্ড লক্ষ্য করা যায়নি। প্রকল্পের টাকা আত্মসাৎ করতেই সেই সাইনবোর্ড সরবরাহ করা হয়নি বলে অভিযোগ অনেকের। স্থানীয়রা জানান, বিভিন্ন দফতর ম্যানেজ করে ইউপি চেয়ারম্যান হেলাল উদ্দিন , প্রকল্পের সভাপতি ও সদস্যরা প্রকল্পের অর্থ আত্মসাৎ করতেই এভাবে খাতা কলমে শতভাগ শ্রমিক উপস্থিতি দেখিয়ে বাস্তবে অনেক কম শ্রমিক দিয়ে কাজ করাচ্ছেন।
  প্রকল্পের সভাপতিরা জানান, চেয়ারম্যানের নির্দেশ মোতাবেক তারা প্রকল্পের কাজ করাচ্ছেন। প্রকল্পে কতজন শ্রমিক কাজ করার কথা তারা এর কিছুই জানেন না। কয়ড়া ইউপি সচিব আব্দুস ছালাম জানান প্রতিটি প্রকল্পে ২০ জন করে মোট ৬০ জন কাজ করছে। মোট শ্রমিকের সংখ্যা ২৩০ জনের জায়গায় ৫৮ জন কেন, এ প্রশ্নের উত্তরে সচিব জানান বাকি গুলো ভিআইপি শ্রমিক। ভিআইপি শ্রমিক করা সচিবের কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান ইউপি চেয়ারম্যান ভালো বলতে পারবেন।
প্রকল্পে শ্রমিকের উপস্থিতি কমের কথা স্বীকার করে কয়ড়া ইউপি চেয়ারম্যান হেলাল উদ্দিন জানান মিথ্যা বলব না ঘটনা সঠিক, নিউজ করার দরকার নাই। ইউপি চেয়ারম্যান হেলাল উদ্দিন নিউজ না করার জন্য অনুরোধ করেন। এ বিষয়ে উল্লাপাড়া উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মাহবুবুর রহমান ভূঁইয়া জানান কয়ড়া ইউনিয়নে কর্মসৃজন প্রকল্পে অনুপস্থিত শ্রমিকদের বিল দেওয়া হয়নি, যারা কাজ করেছে তাদের কে বিল দেওয়া হয়েছে।
Alert! This website content is protected!