বি.দ্রঃদৈনিক নতুন ভাবনাপত্রিকায় প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার সম্পূর্ন লেখকের/প্রতিনিধির।আমরা লেখক প্রতিনিধির চিন্তা ও মতামতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল।প্রকাশিত লেখার সাথে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল সবসময় নাও থাকতে পারে।তাই যে কোনো লেখার জন্য অত্র পত্রিকার কর্তৃপক্ষ দায়ী নয়।

তাজা খবর

এসো সমাধান খুঁজি ইসলামি খেলাফতে ….. মাহমূদ 

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

রিলেশন ভেঙে যাচ্ছে! তুমি বেকার বলে মেয়ের পরিবার তার মেয়েকে তোমার কাছে তুলে দিতে নাখোশ! একটা ‘চাকরি’ পাওনি বলে দীর্ঘদিনের সম্পর্কের ইতি টানতে বাধ্য করা হচ্ছে তোমাকে! কিন্তু ভাই, আসলেই কি ভালোলাগার মানুষটাকে ভুলে যাওয়া যায়?
নাহ! যায়না।

তাহলে কী করার আছে? মেয়েকে নিয়ে পালিয়ে যাবে? তোমার মা-বাবার সম্মান ও সামাজিক অবস্থানের কথা চিন্তা করে তাও পারছো না। ওদিকে মেয়েও একই কারণে সাহস করছে না তোমার সাথে চলে আসার। কিন্তু এভাবে কতদিন, কত যুগল তাদের যৌবনের শুরুতে ভালোলাগার মানুষের থেকে বাধ্য হয়ে দূরে থাকবে? কতজন তার ভালোলাগার মানুষটাকে না পেয়ে মানসিকভাবে বিকারগ্রস্ত হতে থাকবে?

কিছুদিন আগে এক ভাইয়ের সাথে দীর্ঘক্ষণ আলাপ হলো। বয়সে ছোটো হবে। প্রথম আলাপেই ভাইটি তাঁর ব্যক্তিগত অনেক কথা বললো। সদ্য প্রেমের মানুষটাকে হারিয়েছে সে!

একটানা পাঁচবছর রিলেশন করার পর মেয়ের বিয়ে হয়ে গেছে অন্যত্র। ছেলের পরিবার থেকে প্রস্তাব পাঠানো হলেও মেয়ের পরিবার রাজি হয়নি। কারণ? এই ভাইটির একটা ‘চাকরি’ নাই!

আরেক যুগলের খবর আমি জানি। দীর্ঘদিন রিলেশনের পরেও বিয়ে না হওয়ায় মেয়েটি লুকিয়ে ছেলের সাথে এখনও কথা বলতে চায়! ফোন দিয়ে কান্নাকাটি করে। বিয়ের বয়স বছর পেরিয়ে গেলেও ভুলতে পারেনি তাকে। মেয়েটি এখন প্রায় বিকারগস্ত!

ভাই আমার, একটা গোপন কথা বলবো তোমাকে?
শোনো তাহলে–

“আমাদের এই দেশে যদি ইসলামি খেলাফত থাকতো, তাহলে বিশ্বাস করো– তোমার রিলেশন ভেঙে যেতো না। চাকরি পাওনি বলে মেয়ের পরিবার তোমার প্রস্তাব ফিরিয়ে দিতো না। প্রেম ভেঙে অন্যত্র বিয়ে হওয়ার দরুণ কোনো মেয়েকে মানসিকভাবে বিকারগস্ত হয়ে কান্নাকাটি করতে হতো না।”

কী অবাক হচ্ছো? হ্যাঁ, আমি সত্যি বলছি। ইসলামি খেলাফত তথা ইসলামি শাসনব্যবস্থা নিয়ে আমাদেরকে ভুল মেসেজ দেওয়া হয়েছে এতদিন। ফলে ইসলামি শাসনব্যবস্থার কথা শুনলেই আমাদের মনে ভীতির সঞ্চার হয়। মনে হয়– এই বুঝি আমার হাত কাটা গেল! এই বুঝি পাথর মারা হলো! এগুলো ইসলামবিদ্বেষী পশ্চিমাদের ছড়ানো ইসলামোফোবিয়া। তুমি নিশ্চিন্ত থাকো, ইসলাম আসলে তোমার হাত কাটা যাবেনা, পাথর মারা হবেনা। তুমি বরং শতগুন নিরাপত্তায় থাকবে তখন। (এ নিয়ে বিস্তারিত আলাপ হবে আবার। ইনশাআল্লাহ।)

দেশে ইসলামি শাসনব্যবস্থা থাকলে তুমি নিশ্চিতে রিলেশন করতে পারবে; হালাল রিলেশন। যৌবনের প্রথম প্রেম ভাঙবেনা তোমার। প্রিয় মানুষটাকে হারাতে হবেনা একটা ‘চাকরি’ না পাওয়ার কারণে।

কীভাবে?
হ্যাঁ। ইসলাম বলে– “যৌবনের শুরুতেই প্রয়োজনীয়তা অনুভব করলে বিয়ে করে নেও৷” আর বিয়ের প্রয়োজন কার নেই, বলো?

যৌবনের শুরুতে তোমার বিয়ের ব্যবস্থা করে দেওয়ার দায়িত্ব ইসলামি রাষ্ট্র নিবে।

পছন্দের মানুষটাকে বিয়ে করতে পারছো না, কারণ, আপত্তি তোলা হচ্ছে– তুমি বিয়ে করে খাওয়াবে কী তাকে?

এক ভাইকে প্রশ্ন করেছিলাম, “দীর্ঘ এই চার/সাড়ে চার বছরের প্রেমে মেয়ের পেছনে যত খরচ করেছো, বিয়ে করে এই টাকা দিয়ে বউকে ঘরে রেখে খাওয়াতে অসুবিধা হতো?”

ভাইটি আমাকে শোনালো আজব কথা! বললো, “ওই মেয়েকে দেওয়া পনের হাজার টাকার মোবাইল এখনও মেয়ের বাবার কাছে জমা আছে!” অথচ বিয়ে হয়নি তাদের!

আচ্ছা, যে ছেলে পনের হাজার টাকার মোবাইল দেওয়ার সামর্থ্য রাখে, সেই ছেলেটা মেয়েকে ঘরে এনে খরচ চালাতে পারতো না? উপরন্তু ঐ মেয়ের মোবাইল খরচও তো ছেলেটিই দিতো!

আমাদের বিয়ে করতে দেয়া হচ্ছেনা। কারণ, বয়স কম (!?)

ছেলে ‘একুশ’ এর আগে বিয়ে করতে পারবে না, মেয়েকে ‘আঠারো’ এর আগে বিয়ে দিলে বাল্যবিবাহের অপরাধে জেলে যেতে হবে!? অথচ আমি আমার স্কুল-কলেজ পড়ুয়া বন্ধুদের জানি, ‘একুশ’ এর আগে অবৈধভাবে ‘আঠারো’ এর চেয়ে ছোটো মেয়েকে নিয়ে এক বিছানায় শুয়েছে!

এদেশে অবৈধ প্রেমে অসুবিধা নাই। একুশ আর আঠারোর আগে বিবাহবহির্ভূত এক বিছানায় রাত কাটালে দোষ নাই! দোষ শুধু যৌবনের শুরুতে পছন্দের দু’টি ছেলে–মেয়েকে বিয়ে দিয়ে ‘হালালভাবে রিলেশন’ করার সুযোগ করে দিলে!

বন্ধু! প্রচলিত এই রাষ্ট্রব্যবস্থা তোমাকে ভালোবাসার মানুষ থেকে দূরে রাখছে। এই নষ্ট রাষ্ট্রব্যবস্থা তোমার ‘প্রাপ্য অধিকার চাকরি’ না দিয়ে তোমাকে বিয়ে করতে দিচ্ছেনা।

অথচ ইসলামি রাষ্ট্রব্যবস্থা তোমাকে তোমার প্রাপ্য চাকরির নিশ্চয়তা দেয়। তুমি ইতিহাস পড়ে দেখো– ৬৩২ ঈসায়ী থেকে ১৯২৩ ঈসায়ী পর্যন্ত দীর্ঘ ১৩শ’ বছর বিশ্বে রাষ্ট্রীয়ভাবে ইসলামি শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত ছিল। তখন যুবকদের বিয়ে নিয়ে ভাবতে হয়নি। বিবাহের জন্য রাষ্ট্রীয় ভাতা দেয়া হতো! এমনকি মুসলিম শাসনামলে পরিণত বয়সে বিয়ে না করলে কারণ দর্শাতে হতো!

[আরেকটু কথা বলতে হয়, “বিয়ের আগের রিলেশন পুরোপুরি হারাম।”

উপরের কথাগুলো এককথায় আসে–

ইসলামি খেলাফত থাকলে আপনাকে এরকম রিলেশনের পেছনে দৌঁড়ানো লাগতো না। বরং যৌবনের শুরুতে বিয়ে করে হালালভাবে মনভরে রিলেশন করতে পারতেন। হালাল রিলেশন…!]

তুমি আপন নীড়ে ফিরে এসো, ভাই!
চলো, ইসলামি খেলাফত কায়েম করি,
ভালোলাগার মানুষটাকে নিয়ে সংসার গড়ি।

 

Alert! This website content is protected!