বি.দ্রঃদৈনিক নতুন ভাবনাপত্রিকায় প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার সম্পূর্ন লেখকের/প্রতিনিধির।আমরা লেখক প্রতিনিধির চিন্তা ও মতামতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল।প্রকাশিত লেখার সাথে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল সবসময় নাও থাকতে পারে।তাই যে কোনো লেখার জন্য অত্র পত্রিকার কর্তৃপক্ষ দায়ী নয়।

তাজা খবর

করোনা ভাইরাস নিয়ে চবির গবেষক দলের সফলতা

মোঃ সিরাজুল মনির ঃ-

চট্টগ্রামে সংক্রমণ ছড়ানো করোনা ভাইরাসের সঙ্গে ৬টি দেশের করোনা ভাইরাসের মিল খুঁজে পেয়েছেন গবেষকরা। ৩৩টি নমুনার জিনোম সিকোয়েন্স করে ১২৬টি স্থানে মিউটেশন হয়েছে বলেও তথ্য দিয়েছেন তারা।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল গবেষক কর্তৃক চট্টগ্রাম বিভাগের প্রতিটি উপজেলা থেকে নমুনা সংগ্রহ করে চালানো এক গবেষণায় এমন তথ্য উঠে আসে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় জীব বিজ্ঞান অনুষদ ল্যাব এবং প্রাণ রসায়ন ও অনুপ্রাণ বিজ্ঞান বিভাগের ল্যাবে গবেষণায় নেতৃত্ব দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণ রসায়ন ও অনুপ্রাণ বিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও প্রক্টর ড. রবিউল হাসান ভুঁইয়া। এছাড়া গবেষণা সহযোগী হিসেবে ছিলেন উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ওমর ফারুক রাসেল এবং মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. ইমরানুল হক ও ড. এইচ এম আবদুল্লাহ আল মাসুদ।

গবেষণায় দেখা যায়, ৩৩টি নমুনার জিনোম সিকোয়েন্সে চট্টগ্রাম বিভাগের ভাইরাসটির সঙ্গে ৬টি দেশের করোনা ভাইরাসের মিল রয়েছে। এছাড়া চট্টগ্রাম জেলায় ছড়িয়ে পড়া করোনা ভাইরাসের সঙ্গে মিল রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, জার্মানি, ইতালি, চেক রিপাবলিক, সৌদি আরব ও তাইওয়ান এর ভাইরাসের।

গবেষণায় আরও দেখা যায়, বিভিন্ন লোকেশনে এই ভাইরাসের ১২৬টি ভিন্ন ভিন্ন মিউটেশন হয়েছে। এছাড়া জিনগুলো ভিন্ন ভিন্ন জায়গায় মোট ৮৬টি নিউক্লিওটাইড পরিবর্তন হলেও অ্যামিনো এসিডে কোন পরিবর্তন হয়নি। সবগুলো মিউটেশন বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ৫টি মিউটেশন চট্টগ্রামে ব্যাপকভাবে বিস্তার লাভ করেছে। এরমধ্যে একটি মিউটেশন হলো D614G.

বিজ্ঞান বিষয়ক সমায়িকী ‘সাইন্স’ এ প্রকাশিত গবেষণার তথ্যানুযায়ী D614G টাইপ মিউটেশন মানবদেহের প্রাইমারি কোষে সংক্রমণ ও ট্রান্সমিশনকে বাড়িয়ে দিতে সক্ষম।

গবেষণা দলের প্রধান ড. রবিউল হাসান ভুঁইয়া দৈনিক নতুন ভাবনাকে বলেন, গত জুলাই থেকে আমাদের এই গবেষণা কর্ম চালিয়ে আসছি। আশা করছি আমাদের উন্মোচিত জিনের বিন্যাসে চট্টগ্রাম বিভাগের সকল জেলায় ভাইরাসের প্রকৃতি, বিস্তার, উৎপত্তিস্থল, বৈচিত্রতা সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যাবে। যা ভবিষ্যতে কোভিড-১৯ মোকাবেলায় ভূমিকা রাখবে।

Alert! This website content is protected!