বি.দ্রঃদৈনিক নতুন ভাবনাপত্রিকায় প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার সম্পূর্ন লেখকের/প্রতিনিধির।আমরা লেখক প্রতিনিধির চিন্তা ও মতামতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল।প্রকাশিত লেখার সাথে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল সবসময় নাও থাকতে পারে।তাই যে কোনো লেখার জন্য অত্র পত্রিকার কর্তৃপক্ষ দায়ী নয়।

তাজা খবর

কর্ণফুলী নদীর নাব‍্যতা বাড়াতে সমীক্ষা পরিচালনার উদ্যোগ

মোঃ সিরাজুল মনির ব‍্যুরো প্রধান চট্টগ্রাম।
চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদীর নাব্যতা বৃদ্ধিসহ বন্দর জেটিতে বড় জাহাজ ভিড়ানোর পন্থা খুঁজতে একটি সমীক্ষা পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি যুক্তরাজ্যভিত্তিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান এইচ আর ওয়ালিংফোর্ড ইউকের সাথে কর্ণফুলী নদীর হাইড্রোলিক ও হাইড্রোলজিক্যাল সমীক্ষা পরিচালনার জন্য চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। বন্দর কর্তৃপক্ষের সাথে এইচআর ওয়ালিংফোর্ডের চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ব্রিটিশ হাই কমিশনার রবার্ট চ্যাটারটন ডিকসন। এসময় চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এসএম আবুল কালাম আজাদ ছাড়াও শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
কর্ণফুলী নদীর উপর বিশেষ সমীক্ষা পরিচালনায় গুরুত্বারোপ করে বন্দরের কর্মকর্তারা বলেছেন, কর্ণফুলী নদী দেশের অর্থনীতির প্রাণকেন্দ্র। এই নদী চট্টগ্রাম বন্দরের লাইফলাইন। কর্ণফুলীর সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করার মাধ্যমে নদীর দুই পাশের সুবিধাজনক স্থানে বন্দর সংশ্লিষ্ট অবকাঠামো তৈরি এবং নদীর নাব্যতা বাড়িয়ে বর্তমানের চেয়ে বড় বাণিজ্যিক জাহাজ ভিড়ানোর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের ক্ষেত্রে এই সমীক্ষা ভূমিকা রাখবে। এই সমীক্ষার মাধ্যমে একদিকে নদীর নাব্যতা বৃদ্ধির জন্য প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা এবং নদীর জন্য ক্ষতিকর অবকাঠামোা নির্মাণ হতে বিরত রাখার ব্যাপারে সুস্পষ্ট ধারণা লাভ করা সম্ভব হবে। পাশাপাশি কর্ণফুলী নদীর দূষণের হার হ্রাস করে পানির গুণগত মান সহনীয় পর্যায়ে নামিয়ে আনার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা সম্ভব হবে।
তারা বলেন, কর্ণফুলী নদীর বিভিন্ন অংশে নিয়মিত পলি জমে নাব্যতা ক্রমাগত হ্রাস পায়। এক্ষেত্রে নদীর কোন কোন স্থানে নিয়মিত ড্রেজিং প্রয়োজন সেই সম্পর্কেও একটি সুস্পষ্ট ধারণা লাভ করা যাবে। একইসাথে ভবিষ্যতে নদীর দুই পাড়ে যেকোনো ধরনের স্থাপনা তৈরির পূর্বে নদীর উপর এর প্রভাব নির্ণয় করে সমীক্ষার আলোকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
বর্তমানে চট্টগ্রাম বন্দরের বন্দর সীমা মাতারবাড়ী এবং সীতাকুণ্ড পর্যন্ত বৃদ্ধি পাওয়ায় উক্ত এলাকার হাইড্রোলিক ও হাইড্রোলজিক্যাল সমীক্ষার মাধ্যমে পরিকল্পিত টার্মিনালসমূহের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করা যাবে।
চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে রবার্ট চ্যাটারটন ডিকসন বলেন, এই সমীক্ষার মাধ্যমে যুক্তরাজ্যের একটি প্রতিষ্ঠান চট্টগ্রাম বন্দর ও বাংলাদেশের অর্থনীতিতে গঠনমূলক ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে। এ ধরনের একটি প্রয়োজনীয় সমীক্ষা কাজে যুক্তরাজ্যের প্রতিষ্ঠানটিকে বেছে নেওয়ায় বন্দর কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানান তিনি।
বন্দর চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল আবুল কালাম আজাদ বলেন, এই সমীক্ষা পরিচালনার মাধ্যমে ভবিষ্যতের অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কর্ণফুলী নদীকে ঘিরে চট্টগ্রাম বন্দরের ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ সহজ হবে; যা বন্দর এবং দেশের অর্থনীতির জন্য সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।
চট্টগ্রামে দুদিনের সফরে থাকা ব্রিটিশ হাই কমিশনার রবার্ট চ্যাটারটন ডিকসন এর আগে পিএইচপি শিপব্রেকিং এবং রিসাইক্লিং ইয়ার্ড পরিদর্শন করেন। তিনি এইচএসবিসি বাংলাদেশের প্রধান নির্বাহী র্কমকর্তা মাহবুব-উর রহমান ও অন্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে সাক্ষাৎ করেন। বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমডোর সুমন মাহমুদ সাব্বিরের সাথেও দেখা করেন। এছাড়া সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক খোরশেদ আলম সুজন ও বিভাগীয় কমিশনার এবিএম আজাদের সাথে বৈঠক করে গেছেন।
সফর শেষে তিনি বলেন, চট্টগ্রাম সফরে এসে আমার খুব ভালো লেগেছে। যুক্তরাজ্য ও বাংলাদেশের মধ্যে বিদ্যমান বন্ধন, একই সাথে ব্যবসা-বাণিজ্য সুরক্ষা, উন্নয়ন, নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষার মতো বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সকলের সাথে আলোচনা করেছি। বাংলাদেশের উন্নয়ন ও বিকাশে আমরা পাশে থাকব।
Alert! This website content is protected!