বি.দ্রঃদৈনিক নতুন ভাবনাপত্রিকায় প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার সম্পূর্ন লেখকের/প্রতিনিধির।আমরা লেখক প্রতিনিধির চিন্তা ও মতামতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল।প্রকাশিত লেখার সাথে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল সবসময় নাও থাকতে পারে।তাই যে কোনো লেখার জন্য অত্র পত্রিকার কর্তৃপক্ষ দায়ী নয়।

তাজা খবর

চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদীর তীর থেকে অবৈধ স্হাপনা উচ্ছেদের উদ্যোগ জেলা প্রশাসনের

মোঃ সিরাজুল মনির চট্টগ্রাম ব‍্যুরোঃ-
চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদীর তীর এবং চাক্তাই খালের মোহনা সংলগ্ন এলাকায় ৩০ একর জায়গায় অবৈধভাবে গড়ে ওঠা হাজারের অধিক ঘরবাড়ি, দোকানপাট, সমিতিসহ বিভিন্ন অবৈধ স্থাপনা দখলমুক্ত করার উদ্যোগ নিয়েছে জেলা প্রশাসন। অবৈধ স্থাপনাগুলো অপসারণ ও দখল ছেড়ে দেওয়ার জন্য ৪৭ দখলদারকে ৩০ দিনের সময়সীমা বেঁধে দিয়ে নোটিশ দিয়েছে জেলা প্রশাসন। স্থানীয় প্রভাবশালী, রাজনৈতিক নেতা, সন্ত্রাসীর পাশাপাশি পুলিশের কিছু অসাধু কর্মকর্তার যোগসাজসে সেখানে ঘরবাড়ি ও দোকান তুলে নিম্ন আয়েরসহ নানা পেশা-শ্রেণির মানুষকে ভাড়া দেওয়া হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক কার্যালয় (রাজস্ব শাখা) কর্ণফুলীর নদীর তীর এবং চাক্তাই খালের মোহনা সংলগ্ন এলাকায় ৪৭ জন অবৈধ দখলদারের নামে উচ্ছেদ নোটিশ জারি করে। জেলা প্রশাসনের জারি করা বেড়া মার্কেটসহ একাধিক বস্তি ও কলোনির দখলদারদের নোটিশ প্রদানের পাশাপাশি বিভিন্ন জায়গায় উচ্ছেদের নোটিশ টাঙান। নোটিশে বিএস খতিয়ান ৮৬৫১ দাগে ত্রিশ একর জায়গায় বেড়াযুক্ত টিনশেড ঘর, সেমিপাকা ঘর ও বিভিন্ন স্থাপনার কথা উল্লেখ রয়েছে।

হাই কোর্টের নির্দেশে গত বছরের ৪ ফেব্রুয়ারি কর্ণফুলী নদীর দুই পাড়ে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ কার্যক্রম শুরু করেছিল জেলা প্রশাসক। এ সময় দুই দফা উচ্ছেদ অভিযান চালানোর পর মাঝপথে এসে উচ্ছেদ কার্যক্রম গতি হারায়। একই সময় কর্ণফুলীর চাক্তাই খাল সংলগ্ন অবৈধ স্থাপনাগুলো উচ্ছেদের উদ্যোগ নেওয়া হলেও মাঝপথে থেমে যায়।

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) এস এম জাকারিয়া বলেন, কর্ণফুলী নদীর পাড় ঘিরে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের অধীনে খাস খতিয়ানভুক্ত যেসব জায়গা অবৈধ দখলে ছিল গত বছর সেগুলোর অধিকাংশই উচ্ছেদ করা হয়েছিল। হাই কোর্টের রিট আদেশ থাকায় সেখানে কিছু জায়গা উচ্ছেদ করা যায়নি। হাই কোর্টের রিটগুলো খারিজ হলে অবৈধ দখলদারদের বাকি অংশগুলো উচ্ছেদের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

২০১৮ সালে চাক্তাই খাল সংলগ্ন ভেড়া মার্কেটের বস্তিগুলোতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছিল। ওই ঘটনায় জেলা প্রশাসনের গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে জেলা প্রশাসনের খাস খতিয়ানভুক্ত এসব জায়গা থেকে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের ব্যাপারে বলা হয়েছিল। এরই আলোকে অবৈধ দখলদারদের দখল ছেড়ে দিতে নোটিশ দেওয়া হয়েছে।
এসএম জাকারিয়া বলেন, বর্তমানে কর্ণফুলী নদীর পাড় ঘিরে অবৈধ দখলদার উচ্ছেদের দায়িত্ব সম্পূর্ণ চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের। গত ৮ ডিসেম্বর কর্ণফুলীতে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের বিষয়ে হাই কোর্ট বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যানকে নির্দেশনা দিয়েছিলেন।
ত্রিশ একরে ৪৭ দখলদার : গত বছর জানুয়ারিতে কর্ণফুলী নদীর চাক্তাই-রাজাখালী মোহনা ঘিরে কলোনি, দোকানপাটসহ বিভিন্ন স্থাপনা অবৈধভাবে গড়ে তোলা ৪৭ জন দখলদারকে উচ্ছেদের নোটিশ দেয়। পরের মাস থেকে উচ্ছেদ কার্যক্রম শুরু করার প্রক্রিয়া শুরু করে জেলা প্রশাসন। কিন্তু মাঝপথে এ উদ্যোগ থেমে যায়। এরই মধ্যে আরও শত শত ঘরবাড়ি গড়ে উঠেছে। এবারও একই ব্যক্তিদের নামে উচ্ছেদ নোটিশ দেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন মালিকানার কলোনির পাশাপাশি বেড়া মার্কেট সমিতিসহ একাধিক প্রভাবশালীর অবৈধ স্থাপনার দখল ছেড়ে দিতে এ নোটিশ দেওয়া হয়েছে।
ঘটনাস্থলে জেলা প্রশাসনের জারিকারক মো. সেলিম বলেন, ডিসি অফিসের নির্দেশে গত মঙ্গলবার থেকে অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদের নোটিশ দেওয়া হচ্ছে। গত বছর উচ্ছেদ অভিযানে এসব জায়গা দখলমুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। জায়গাগুলো পুনরায় উচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নিয়েছে জেলা প্রশাসন। গত বছর তালিকায় থাকা বিভিন্ন বস্তির মালিকসহ ৪৭ জন দখলদারের নামে এসব নোটিশ সরাসরি ও বাহকের মাধ্যমে পৌঁছে দেওয়ার কাজ শুরু হয়েছে বলে জানান তিনি।
জানা গেছে, অবৈধ স্থাপনাগুলোর মধ্যে সম্প্রতি নতুন ফিশারিঘাটে তৈয়ব হত্যাকাণ্ডে জড়িত কসাই আক্তারসহ আরও কয়েকজন আসামির নামে একাধিক কলোনি রয়েছে। ওই খুনের মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে কসাই আক্তারসহ বর্তমানে কয়েকজন কারাগারে রয়েছে। বাকিরা পলাতক। গত ১৬ অক্টোবর চাক্তাইয়ে নতুন ফিশারিঘাটে শ্রমিক সরবরাহের দায়িত্বে থাকা আবু তৈয়বকে ছুরিকাঘাত ও পিটিয়ে খুনের পর ঘটনাটিকে গণপিটুনি বলে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে আসামিরা। এছাড়া অবৈধ দখলদারদের মধ্যে বেড়া মার্কেট সমিতির অফিস, জাতীয় মৎস্যজীবী সমিতি লিমিটেডসহ বিভিন্ন প্রভাবশালী রয়েছেন।
বস্তির ভাড়া তুলে পুলিশ : বছরের পর বছর ধরে চাক্তাই সংলগ্ন বস্তিগুলোতে অবৈধভাবে ঘরবাড়ি তুলে নিম্নআয়ের মানুষের কাছে ভাড়া দেওয়া হচ্ছে। সম্প্রতি তৈয়ব হত্যাকাণ্ডের পর কসাই আক্তারের মালিকানার কলোনিসহ একাধিক কলোনির মালিকের ভাড়াটিয়াদের মাসিক ভাড়া আদায় অনিয়মিত হয়ে পড়ে। আসামিদের কেউ জেলে, কেউ পলাতক থাকায় এ পরিস্থিতি তৈরি হয়। এসব বকেয়া ভাড়া পরিশোধের বিষয়ে সরাসরি হস্তক্ষেপ করার অভিযোগ উঠেছে পুলিশের বিরুদ্ধে।
অভিযোগ উঠেছে, ১২ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় চাক্তাই পুলিশ বিট ফাঁড়ির দুই কর্মকর্তা কসাই আক্তারের কলোনিতে গিয়ে ভাড়াটিয়াদের কাছ থেকে জোরপূর্বক বকেয়া ভাড়া আদায় করেন। এ সময় ভাড়া দিতে না পারায় কয়েকজনকে মারধর করারও অভিযোগ ওঠে। একই সাথে কলোনির ভাড়াটিয়াদের মাসিক ভাড়া কসাই আক্তারের স্ত্রী রোকসানা আক্তারকে দেওয়ার নির্দেশ দেন।
আকবর হোসেন নামে কলোনির এক ভাড়াটিয়া বলেন, আমার দুই মাসের বাসা ভাড়া বকেয়া ছিল। হঠাৎ পুলিশের লোক এসে ভাড়ার জন্য চাপ দেয়। তখন টাকা দিতে না পারায় মারধর করে। পরে কোনোরকমে এক হাজার টাকা ম্যানেজ করে হারুন নামে একজনের হাতে তুলে দিই। মৃলত প্রশাসনিক পরিচয় দিয়ে এ স্হান গুলো থেকে ভাড়ার নামে টাকা তুলে নিয়ে যায়।
Alert! This website content is protected!