বি.দ্রঃদৈনিক নতুন ভাবনাপত্রিকায় প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার সম্পূর্ন লেখকের/প্রতিনিধির।আমরা লেখক প্রতিনিধির চিন্তা ও মতামতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল।প্রকাশিত লেখার সাথে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল সবসময় নাও থাকতে পারে।তাই যে কোনো লেখার জন্য অত্র পত্রিকার কর্তৃপক্ষ দায়ী নয়।

তাজা খবর

চট্টগ্রামের চন্দনাইশে ক্যাব’র উদ্যোগে নিরাপদ খাদ্য ও ভোক্তা অধিকার নিশ্চিতে করণীয় নিয়ে সেমিনার অনুষ্ঠিত

মোঃ সিরাজুল মনির ব‍্যুরো প্রধান চট্টগ্রাম।
ব্যবসায়ী হিসাবে সর্বস্তরের ব্যবসায়ীরা সংগঠিত আর ভোক্তারা অসংগঠিত। আর সেকারনে ভোক্তা হিসাবে ১৮ কোটি জনগন প্রতিনিয়তই মূল্য সন্ত্রাশের শিকার এবং প্রতারিত ও ঠকছি। চারদিকে ভেজালের দৌরাত্ম্যে ও অসাধু ব্যবসায়ীদের একছত্র আধিপত্ত্যের কারনে সাধারণ ভোক্তারা ক্রমশঃ অসহায় হয়ে পড়েছে। ভেজালের পরিধি এখন আর খাদ্যে ও ভোগ্য পণ্যে সীমাবদ্ধ নাই, জীবনরক্ষাকারী ওষুধ ও স্বাস্থ্য সেবাসহ জীবন-জীবিকা নির্বাহের অন্যান্য অধিকারের বেলায়ও এর বিস্তৃতি ঘটেছে। ভোক্তাদের অধিকার সংরক্ষনের জন্য সরকার ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন ২০০৯ নামে একটি যুগান্তকারী আইন প্রণয়ন করেছেন। ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণসহ জনভোগান্তি নিরসনে অনেকগুলি উদ্ভাবনী উদ্যোগ এবং ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মতো কাঠামো প্রতিষ্ঠা হলেও অধিকাংশ ভোক্তারা অধিকার আদায়ে অসচেতন, ঘুমন্ত ও নিস্ক্রিয় থাকায় এ সমস্ত সরকারি উদ্যোগগুলির সুফল সাধরণ জনগন পাচ্ছে না। দেশে কাঁচা মাছ, মাংশ থেকে শুরু করে সকল স্তরের ব্যবসায়ীরা সুসংগঠিত আর ভোক্তা হিসাবে সাধারণ জনগন অসংগঠিত ও সচেতন নয়, বিধায় ব্যবসায়ীরা বারবার বিভিন্ন অযুহাতে জনগনকে জিম্মি করে জনগনের পকেট কাটছে। আর ব্যবসায়ী সংগঠনের চাপে প্রশাসন সেখানে নিরব দর্শক হয়ে থাকছেন। তৃণমূলে সত্যিকারের সুশাসন ও নাগরিক অধিকার প্রতিষ্ঠায় অধিকার ভোগ করার পাশাপাশি নাগরিকদেরকে নিজেদের দায়িত্ব অধিকার ও কর্তব্য সম্পর্কে সচেতন ও সক্রিয় হতে হবে। আর এ কাজে দল-মত, জাতি ধর্ম, বর্ন নির্বিশেষে সকলকে এগিয়ে আসতে হবে।

শনিবার (২৮ নভেম্বর ) সকাল ১১টায় চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলার পিপিএস মডেল উচ্চ বিদ্যালয় মিলনায়তনে নিরাপদ খাদ্য ও ভোক্তা অধিকার নিশ্চিতে করণীয় নিয়ে এক সেমিনারে বিভিন্ন বক্তাগন উপরোক্ত অভিমত ব্যক্ত করেন। কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) চন্দনাইশ উপজেলা শাখার আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চন্দনাইশ  উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলহ্জা¦ আবদুল জাব্বার। ক্যাব চন্দনাইশ উপজেলা শাখার সভাপতি নুরুল হক চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় মুখ্য আলোচক ছিলেন ক্যাব কেন্দ্রিয় কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট এস এম নাজের হোসাইন। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মুহাম্মদ হাসানুজ্জমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম বিভাগীয় উপ-পরিচালক মোহা¥দ ফয়জুল্যাহ, চন্দনাইশ পৌর সভার মেয়র মাহবুবুল আলম খোকা, চন্দনাইশ উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারারম্যান মওলানা সোলাইমান ফারুকী, ক্যাব চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা সভাপতি আলহাজ্ব আব্দুল মান্নান। আলোচনায় আরো অংশনেন চীনের পিকিং বিশ^বিদ্যালয়ের পিএইচডি ফেলো ও শিশু রোগ বিশেষজ্ঞ ডাঃ নাজমুস সাকিব,  ক্যাব পাচলাইশ থানার সাধারন সম্পাদক সেলিম জাহাঙ্গীর, ক্যাব চান্দগাও থানা সভাপতি মোহাম্মদ জানে আলম, সাংবাদিক সৈয়দ শিবলী সাদিক কফিল প্রমুখ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ভোক্তা অধিকার সুরক্ষায় সর্বস্তরের জনসচেতনতার পাশাপাশি অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে সংগঠিত প্রতিবাদ ও সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার উপর গুরুত্ব আরোপ করেন। অসাধু ব্যবসায়ীদের সামাজিক ভাবে বয়কট করার আহবান জানান। উপজেলা প্রশাসন থেকে এ কাজে ক্যাবকে সার্বিক সহযোগিতা ও সমর্থন প্রদানের আশ^াস দেন।

মুল প্রবন্ধে জাতীয় ভোক্তা অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক হাসানুজ্জমান বলেন, ক্যাব স্বাধীনতা পরবর্তী সময় থেকে দেশের মানুষের অধিকার সুরক্ষায় অনেকগুলি যুগান্তকারী আন্দোলনে নেতৃত্ব প্রদান করে আসছে। তারই ধারাবাহিকতায় ভোক্তাদের অধিকার সুরক্ষায় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন ২০০৯ প্রনয়ণেও ক্যাব অগ্রনী ভূমিকা পালন করেছেন। অনেকের ধারনা ভোক্তা হিসাবে প্রতারিত ও ক্ষতিগ্রস্থ হলে অভিযোগ করে প্রতিকার পাওয়া যায় না। ভোক্তা অধিকার আইন অনুযায়ী একজন ভুক্তভোগী ক্ষতিগ্রস্থ ও প্রতারিত হলে সরাসরি অতি সহজে বিনা কোর্ট ফিঃ ও অ্যাডভোকেট নিযুক্ত ছাড়াই মোবাইল, ফেসবুক, ইন্টারনেট, চিঠির মাধ্যমে অভিযোগ দাখিল করতে পারেন। অভিযোগ প্রমানিত হলে জরিমানার ২৫ শতাংশ অভিযোগকারী পাবেন। প্রতি সপ্তাহে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের কেন্দ্রিয়, বিভাগীয় ও জেলা কার্যালয়ে গণশুণাণী ও মাঠ পর্যায়ে বাজার তদারকির মাধ্যমে অভিযোগগুলি দ্রুত নিস্পত্তি করা হচ্ছে। কিন্তু সাধারণ জনগণের মাঝে এ বিষয়ে পরিস্কার তথ্য না থাকায় জনগণ ভোক্তা অধিকার সুরক্ষায় সরকারের এই যুগান্তকারী উদ্যোগ থেকে তেমন সুফল পাচ্ছে না। অভিযোগ স্থানীয় ভাবে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের মাধ্যমে, সরকারী সেবা ১৬১২১, ৩৩৩, ৯৯৯ অথবা ক্যাবের স্থানীয় শাখার মাধ্যমেও অভিযোগ দাখিল করা যাবে। তাই সাধারণ জনগণ ও ভোক্তাদের অধিকার সংরক্ষণে এই যুগান্তকারী আইন ও সুযোগ সম্পর্কে সর্ব সাধারণকে জানানোর জন্য ব্যাপক গণসচেতনতা সৃষ্ঠির উদ্যোগ নেবার জন্য সকলের প্রতি আহবান জানানো হয়েছে।

Alert! This website content is protected!