বি.দ্রঃদৈনিক নতুন ভাবনাপত্রিকায় প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার সম্পূর্ন লেখকের/প্রতিনিধির।আমরা লেখক প্রতিনিধির চিন্তা ও মতামতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল।প্রকাশিত লেখার সাথে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল সবসময় নাও থাকতে পারে।তাই যে কোনো লেখার জন্য অত্র পত্রিকার কর্তৃপক্ষ দায়ী নয়।

তাজা খবর

চট্টগ্রামে রেলওয়ের বিপুল পরিমাণ জমি বেদখলে

মোঃ সিরাজুল মনির ব‍্যুরো প্রধান চট্টগ্রাম।

চট্টগ্রামে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের বিপুল পরিমাণ জমি বেহাত হয়েছে। সরকারি দলের নাম ভাঙ্গিয়ে বেদখল হওয়া এসব জমিতে সংগঠিত হচ্ছে অপরাধীরা। অথচ এসব জমিতে শত কোটি টাকা আয় করতে পারতো রেলওয়ে। বৃদ্ধি পেত সরকারি রাজস্ব। এবার এসব অপরাধ নিয়ন্ত্রণ ও নগরীর সৌন্দর্য বৃদ্ধিতে চট্টগ্রামের দু’টি স্পট বরাদ্দ পেতে চাইছে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (চসিক)। যদিও বরাদ্দ চাওয়ার বিষয়টি নিয়ে এখনও পর্যন্ত চসিকের কাছ থেকে কোন চিঠি পায়নি বলে জানিয়েছেন পূর্বাঞ্চল রেলওয়ের কর্মকর্তারা।

এদিকে চসিক সূত্র জানায়, চট্টগ্রাম নগরীর পাহাড়তলী এলাকার জোড় ডেবা ও রেলওয়ের নতুন স্টেশন বরাদ্দপেতে চাইছে চসিক। সম্প্রতি ঢাকা সফরে বিষয়টি নিয়ে রেলমন্ত্রী নূরুল ইসলাম সুজনের সঙ্গে রুদ্ধদার বৈঠকও হয়েছে চসিক প্রশাসক খোরশেদ আলম সুজনের।

চসিক সংশ্লিষ্টরা বলছেন, জোড় ডেবা চসিক বরাদ্দ পেলে সেটি গড়ে তোলা হবে চট্টগ্রামের অন্যতম একটি দৃষ্টিনন্দন স্থান হিসেবে। আর নতুন রেলওয়ে স্টেশন এলাকার পার্কটি বরাদ্দ পেলে সেখানে করা হবে বহুমুখি পার্কিং। রেলস্টেশন এলাকার পার্কটি বর্তমানে একমুখী হওয়ার কারণে ওই এলাকার যানজটের প্রভাব গিয়ে পড়ছে নিউমার্কেট, রেলস্টেশন, রেয়াজউদ্দিন বাজার এলাকাজুড়ে। এর প্রভাবে চট্টগ্রাম নগরীর একটি অংশে সৃষ্টি হচ্ছে যানজট। এতে যাত্রী-পথচারীরা ভুগছেন চরম দুর্ভোগে।

এদিকে নগরীর পাহাড়তলী এলাকার জোড় ডেবা এলাকা ঘিরে দখলদাররা গড়ে তুলেছে অপরাধের স্বর্গরাজ্য। অভিযোগ রয়েছে, জোড় ডেবা পাড়ের পশ্চিম পাশে অবৈধভাবে গড়ে তোলা হয়েছে প্রায় ৫ শতাধিক বস্তিঘর। টানা হয়েছে চোরাই বিদ্যুৎ লাইন। রেলের সম্পদ বেদখল করে একেতো গড়ে তুলছে অবৈধ স্থাপনা। এসব স্থাপনায় নিম্ন শ্রেণি আয়ের মানুষের কাছে কম টাকায় ভাড়া কিংবা থাকতে দেওয়ার বিনিময়ে তাদেরকে ব্যবহার করা হচ্ছে অপরাধমূলক কাজে। ওই এলাকার স্থানীয়দের আক্ষেপ, ছিঁচকে চুরি থেকে শুরু করে জমি দখল সবকিছুর নিয়ন্ত্রণ হয় এসব বস্তিগুলোকে কেন্দ্র করেই। চিহিৃত অপরাধীরা সেখানে রীতিমত আস্তানা গড়ে তুলেছে প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায়।

রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের নির্ভরযোগ্য একটি সূত্র বলছে, অচিরেই এসব অপরাধীদের আস্তানায় উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনার প্রস্তুতি নিচ্ছে পূর্বাঞ্চল রেলওয়ে। চলতি মাসের শেষের দিকে অথবা ডিসেম্বরেই হতে পারে উচ্ছেদ অভিযান।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলে জানা যায়, ব্রিটিশ শাসনামলে নগরীর পাহাড়তলী জলাধার তৈরি করে রেলওয়ে। যা পরিচিত পাহাড়তলী ‘হর্স-স্যু-ট্যাংক’ বা ‘জোড় ডেবা’ নামে পরিচিত। ২১.৪৮ একরের এই সুবিশাল জলধারটি মাছ চাষের জন্য ১৯৯৬ সালে ইজারা নেন স্থানীয় ব্যবসায়ী আবদুল হাই। দীঘির পাড় তখন বেদখল হতে শুরু করে। এরপরও ২০০২ সালে আবদুল হাই আরও পাঁচ বছরের জন্য দীঘির ইজারা পান। অবৈধ বস্তিঘর তখন আবারও বাড়ে। পরে ঘটনাক্রমে দীঘির ইজারা পান আবদুল হাইয়ের ভাতিজা আবদুল লতিফ। যার সাথে পূর্বরেলের একটি মামলা চলছে বলেও জানান রেলওয়ে কর্মকর্তারা।

ওই জোড় ডেবা এলাকায় সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ডেবার চারপাশ ঘিরে গড়ে তোলা হয়েছে প্রায় ৫ শতাধিক বস্তি ঘর। ডেবার মূল প্রবেশমুখ ছাড়াও ভেতরে রয়েছে ছোট ছোট অন্তত ৪টি প্রবেশ–বর্হিগমন পথ। শুধুমাত্র বস্তি ঘর ছাড়াও ডেবার শেষ প্রান্তে চোখে পড়েছে ৫টি রিকশার গ্যারেজ। জোড় ডেবার একপাশ দিয়ে গড়ে উঠা বস্তিগুলো ঘেঁষে রয়েছে ছোট-বড় প্রায় ৮টি ঘাট। বস্তিতে বসবাসকারীদের নিয়মিত ব্যবহারের পানি যোগান দেয় এই ডেবা।

রেলওয়ের চট্টগ্রাম বিভাগীয় ভূ-সম্পত্তি কর্মকর্তা মাহবুব উল করিম জানান, ওই ডেবাকে কেন্দ্র করে একটি আইনি জটিলতা আছে।

এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘জোড় ডেবাটি নতুন নীতিমালার আলোকে টেন্ডারের জন্য আমাদেরকে একটি চিঠি দেওয়া হয়েছে। আমরা সে অনুসারে প্রস্তুতি নিচ্ছি।’

দীর্ঘ দিন ধরে সেখানে গড়ে উঠা বসতিগুলোর বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘সেখানে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে এরই মধ্যে একটি খসড়া তৈরি করেছি। অনুমোদন পেলে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হবে।’ নতুন স্টেশনসহ এ ‌‘জোড় ডেবাটি’র বরাদ্দ পেতে চসিক থেকে চিঠি পাননি বলেও তিনি জানান।

এদিকে রেলমন্ত্রীর সাথে বৈঠক শেষে চসিক প্রশাসক সুজন জানিয়েছেন, রেলমন্ত্রী সুবিধাজনক সময়ে চট্টগ্রামে এসে নিজেই এসব প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাই করবেন। এমনকি ইতিবাচক একটি সিদ্ধান্ত আসতে পারে বলেও আশ্বস্ত করেন মন্ত্রী।

অন‍্যদিকে দেখা যায় রেললাইনগুলো যেদিক দিয়ে গেছে প্রায় এলাকা জুড়ে দোকানপাঠ ঘর নির্মাণ করে বসবাস করে দীর্ঘদিন যাবৎ অবৈধ দখলদাররা। রেলওয়ের লোকজন মাঝেমধ্যে অবৈধ স্হাপনা উচ্ছেদ করতে গেলেও অনেক বাধার সম্মুখীন হতে হয়।
Alert! This website content is protected!