বি.দ্রঃদৈনিক নতুন ভাবনাপত্রিকায় প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার সম্পূর্ন লেখকের/প্রতিনিধির।আমরা লেখক প্রতিনিধির চিন্তা ও মতামতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল।প্রকাশিত লেখার সাথে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল সবসময় নাও থাকতে পারে।তাই যে কোনো লেখার জন্য অত্র পত্রিকার কর্তৃপক্ষ দায়ী নয়।

তাজা খবর

চট্টগ্রাম বন্দরে ক‍্যাপিটাল ড্রেজিং করে ৯ লাখ ঘনমিটার মাটি তোলা হবে

মোঃ সিরাজুল মনির ব‍্যুরো প্রধান চট্টগ্রাম।

চট্টগ্রাম বন্দরের ক্যাপিটাল ড্রেজিং প্রকল্পের আওতায় কর্ণফুলী নদী থেকে বাড়তি ৯ লাখ ঘনমিটার মাটি উত্তোলন করা হবে। এতে বাড়তি ব্যয় হবে প্রায় ৭০ কোটি টাকা। বিদেশ থেকে গ্রেভ না এনে দেশীয় গ্রেভ দিয়ে কাজ করারও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। প্রকল্পের মেয়াদও এক বছর বাড়ানো হচ্ছে। ক্যাপিটাল ড্রেজিং প্রকল্প নিয়ে বন্দর কর্তৃপক্ষের প্রস্তাবনার প্রেক্ষিতে বুয়েটের বিশেষজ্ঞ টিম উপরোক্ত পরামর্শ প্রদান করেছে। তাদের প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে মন্ত্রণালয়ে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, কর্ণফুলী নদী থেকে ৪২ লাখ ঘনমিটার মাটি উত্তোলনের জন্য ‘সদরঘাট টু বাকলিয়ার চর ড্রেজিং’ প্রকল্প নেওয়া হয়। বন্দর কর্তৃপক্ষের এই প্রকল্পটিতে ব্যয় ধরা হয় ২৫৮ কোটি টাকা। ইতোপূর্বে নেওয়া ক্যাপিটাল ড্রেজিং প্রকল্পের ব্যাপারে আইনি জটিলতা এড়াতে নতুন নামে প্রকল্পটি গ্রহণ করা হয়। এই প্রকল্প নিয়ে কর্ণফুলী নদীর তলদেশ থেকে মাটি উত্তোলন শুরু হয়। এই প্রকল্পের আওতায় সদরঘাট থেকে বাকলিয়ার চর পর্যন্ত প্রায় আড়াই কিলোমিটার দীর্ঘ এবং ২৫০ মিটার চওড়া এলাকায় ড্রেজিং করার কথা। নৌবাহিনীর মাধ্যমে চীনা কোম্পানি ই-ইঞ্জিনিয়ারিং প্রকল্পটির কাজ করছে। ড্রেজিং থেকে উত্তোলিত বালি ও মাটি বন্দরের হামিদচর এলাকা ভরাট করার কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে। কিন্তু পলিথিন জঞ্জালে কাজের গতি না থাকায় এক বছরেরও বেশি সময় ধরে কাজ করা হলেও প্রকল্পের কাজ ৪০ শতাংশও শেষ হয়নি। বর্জ্যের জন্য নদীর তলদেশের মাটি কাটা সম্ভব হচ্ছে না। অথচ কাজ শুরুর আগে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়েছিল, এক বছরের মধ্যে প্রকল্পটির কাজ শেষ হবে।

মেয়াদের প্রায় শেষ পর্যায়ে এসে দেখা যায়, নদীর তলদেশ জুড়ে থাকা পলিথিনের জঞ্জাল উপরে তোলা সম্ভব না হলে প্রকল্পের উদ্দেশ্য ভেস্তে যাবে। এতে করে প্রকল্পটি নিয়ে নতুন করে চিন্তাভাবনা শুরু হয়। বলা হয়, নদী থেকে ৪২ লাখ ঘনমিটারের পরিবর্তে ৫১ লাখ ঘনমিটার মাটি ও বালি উত্তোলন করতে হবে। ৯ লাখ ঘনমিটার বাড়তি মাটি ও বালি উত্তোলন করতে হলে প্রকল্প ব্যয় বৃদ্ধি পাবে অন্তত একশ কোটি টাকা। এই অবস্থায় প্রকল্প ব্যয় ৩৫৮ কোটি টাকা এবং প্রকল্পের মেয়াদ এক বছর বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের এই প্রস্তাব নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হলে বিষয়টি নিয়ে নতুন করে হিসাব নিকাশ করা হয়। নৌ পরিবহন সচিব মেজবাহউদ্দিন চৌধুরী চট্টগ্রাম এসে সরেজমিনে কর্ণফুলী নদী পরিদর্শন করেন। পরিদর্শন শেষে বন্দরের শীর্ষ কর্মকর্তাদের নিয়ে বৈঠকে প্রকল্পের প্রস্তাবিত খরচ কমানোর ব্যাপারে আলোচনা হয়। কী পদক্ষেপ নিলে খরচ কমানো যাবে তা খতিয়ে দেখতে প্রকল্পটির পরামর্শক প্রতিষ্ঠান বুয়েটের বিটিআরসিকে দায়িত্ব দেওয়া হয়।

দীর্ঘ সমীক্ষা শেষে খসড়া রিপোর্ট প্রস্তুত করেছে বিটিআরসি। এতে প্রকল্পের বিভিন্ন কাজের সাথে সমন্বয় করে ব্যয় ১শ কোটি টাকা থেকে কমিয়ে ৭০ কোটি টাকার কাছাকাছি নির্ধারণ করা হয়েছে। অর্থাৎ প্রকল্পটির আওতায় কর্ণফুলী নদী থেকে ৯ লাখ ঘনমিটার বাড়তি মাটি ও বালি উত্তোলন করা হবে। এতে খরচ বাড়বে ৭০ কোটি টাকা। পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে প্রকল্পটির ৫৮ শতাংশ মাটি ও বালি গ্রেভ দিয়ে উত্তোলনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। একই সাথে এই কাজে বিদেশ থেকে গ্রেভ না এনে দেশীয় গ্রেভ দিয়ে মাটি উত্তোলনের কথা বলা হয়েছে। ৪২ শতাংশ মাটি নরমাল কাটার দিয়ে কাটার পরামর্শ দেওয়া হয়। কাটার দিয়ে প্রতি ঘনমিটার মাটি ৪২৭ টাকায় এবং গ্রেভ দিয়ে প্রতি ঘনমিটার মাটি উত্তোলনের ব্যয় ৬১৫ টাকা হিসাব করা হয়েছে। নয় লাখ ঘনমিটার বাড়তি মাটিসহ মোট ৫১ লাখ ঘনমিটার মাটি ও বালি উত্তোলন করা হলে প্রকল্পটি সফল হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।

বুয়েটের এসব প্রস্তাবনা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। কয়েকদিনের মধ্যে এই ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে প্রকল্প পরিচালক কমডোর মোহাম্মদ আরিফ জানিয়েছেন।

Attachments area
Alert! This website content is protected!