বি.দ্রঃদৈনিক নতুন ভাবনাপত্রিকায় প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার সম্পূর্ন লেখকের/প্রতিনিধির।আমরা লেখক প্রতিনিধির চিন্তা ও মতামতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল।প্রকাশিত লেখার সাথে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল সবসময় নাও থাকতে পারে।তাই যে কোনো লেখার জন্য অত্র পত্রিকার কর্তৃপক্ষ দায়ী নয়।

তাজা খবর

চসিক নির্বাচনে বিদ্রোহী প্রার্থী সহ সাবেক মেয়রের আধিপত্য বিস্তার ছিল বেশি

মোঃ সিরাজুল মনির :

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (চসিক) নির্বাচনে কাউন্সিলর পদে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছেন ৭ বিদ্রোহী প্রার্থীসহ আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থীরা। সবগুলো কেন্দ্রেই ছিল তাদের জয়। বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়ার কারণে নির্বাচনের আগে দল থেকে তাদের বহিষ্কার করার কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসে তাদেরও মৌন সমর্থন দেয় আওয়ামী লীগ। এ নির্বাচনে যারা বিদ্রোহী হয়ে জিতেছে তারা এলাকায় জনপ্রিয় ছিল বলেও  অনেকের ধারণা।

চসিক নির্বাচনে অংশ নেয়া ১২ বিদ্রোহী প্রার্থীর মধ্যে জয়ের মালা ওঠে সাত বিদ্রোহী প্রার্থীর গলায়। চসিকের ৪০টি ওয়ার্ডের প্রার্থীর ফলাফলে সবগুলোতেই জয় পায় আওয়ামী লীগের সমর্থকরা। এছাড়া সংরক্ষিত ১৪টি মহিলা আসনের মধ্যে সবগুলোতেই নির্বাচিত হয় আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী। সংরক্ষিত মহিলা আসনসহ ৫৪টি আসনের মধ্যে কাউন্সির পদে সবগুলোতেই জয়ী হয় আওয়ামী লীগ সমর্থিত ও মনোনীত প্রার্থীরা।

তবে ৪০টি ওয়ার্ড ও ১৪টি সংরক্ষিত মহিলা আসনের মধ্যে যারা কাউন্সিলর হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন তাদের মধ্যে সাবেক মেয়র আজম নাছির সমর্থিত ১৯জন কাউন্সিলর প্রার্থী ও  সংরক্ষিত মহিলা আসন পদে ৬ জন কাউন্সিলর প্রার্থী বিজয়ী হয়েছেন।

তারা হলেন, ওয়ার্ড-১ : গাজী মো. শফিউল আজিম ,ওয়ার্ড-২ : সাহেদ ইকবাল বাবু, ওয়ার্ড-৪ : এসরারুল হক , ওয়ার্ড-৭ : মোবারক আলী ,ওয়ার্ড-৮ : মোরশেদ আলম, ওয়ার্ড-৯ : জহুরুল আলম জসিম, ওয়ার্ড-১০ : নিছার উদ্দীন আহমেদ, ওয়ার্ড-১১ : মোহাম্মদ ইসমাইল,ওয়ার্ড-১২ : মো. নুরুল আমিন ,ওয়ার্ড-১৫ : মোহাম্মদ গিয়াস উদ্দীন ,ওয়ার্ড-২০ : চৌধুরী হাসান মাহমুদ হাসনী ,ওয়ার্ড-২১ : শৈবাল দাস সুমন ,ওয়ার্ড-২২ : মোহাম্মদ সলিম উল্লাহ বাচ্চু, ওয়ার্ড-২৪ : নাজমুল হক ডিউক ,ওয়ার্ড-২৯ : গোলাম মোহাম্মদ জোবায়ের ,ওয়ার্ড-৩৩ : হাসান মুরাদ বিপ্লব ,ওয়ার্ড-৩৭ : আব্দুল মান্নান ,ওয়ার্ড-৪০ : আব্দুল বারেক, ওয়ার্ড-৪১ : সালেহ আহমদ চৌধুরী।

এছাড়া সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর পদে জয়ীরা হলেন- ফেরদৌস বেগম মুন্নি, জোবাইদা নার্গিস, জেসমিন পারভীন জেসি, জাহেদা বেগম পপি, ফেরদৌসি আকবর, লুৎফুন্নেছা দোভাষ বেবী ।

নগর আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে জড়িত আছেন এমন অনেকের অভিমত, আঞ্চলিক ও জাতীয় রাজনীতিতে অনেকটাই কোনঠাসা হয়ে চসিকের মেয়র পদ থেকে ছিটকে পড়া আজম নাছির উদ্দিনের সমর্থরা বাজিমাত করেছেন আ জ ম নাছিরের রাজনৈতিক প্রজ্ঞায়।  সেকারণেই প্রশ্ন উঠেছে, তবে কী চসিকে রয়েই গেল নাছিরের ছায়া!

দলীয় রাজনীতিতে গ্রুপভিত্তিক বিভক্তির কারণে দ্বিতীয় মেয়াদে মেয়র পদে মনোনয়ন পাননি তিনি। সে কারণে প্রথম দিকে কিছুটা হতাশ থাকলেও দলীয় প্রার্থীকে জেতাতে ধীরে ধীরে সক্রিয় হয়ে ওঠেন তিনি। মেয়র প্রার্থী রেজাউল করিমের প্রচারণা থেকে শুরু করে নির্বাচনী ফলাফল পর্যন্ত নাছির যে রাজনৈতিক শিষ্টাচার দেখিয়েছেন তা নজর কেড়েছে অনেকেরই।

চট্টগ্রামের আওয়ামী রাজনীতিতে মহিউদ্দিন—নাছির সমর্থকদের মাঝে দ্বন্দ্ব সবসময় দৃশ্যমান। অনেকদিন ধরে কোনো পদে না থেকেও এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর মতো পাক্কা রাজনীতিবিদের সাথে টক্কর দেওয়া ব্যক্তি হচ্ছেন আ জ ম নাছির। ২০১৫ সালে মেয়র হওয়ার দুই বছরের মধ্যে দলের সাধারণ সম্পাদক হওয়া দেখে অনেকেই ভেবেছিল চট্টগ্রামের আওয়ামী রাজনীতিতে মহিউদ্দিন চৌধুরীর দাপট বুঝি শেষ হলো। কিন্তু এবারের চসিক নির্বাচনে নাছির মেয়র পদে বঞ্চিত হলেও কাউন্সিলর পদে মহিউদ্দিন এবং নাছিরের যে অদৃশ্য লড়াই হয়েছে তা আর বলার অপেক্ষা রাখেনা। এখন অনেকেই ভাবতে শুরু করেছেন নাছির মেয়র থেকে বঞ্চিত হলেও এখনও চসিকে থাকবে তারই ছায়া।

এবিষয়ে জানতে চাইলে আ জ ম নাছির উদ্দিন বলেন, চসিক নির্বাচনে কাউন্সিলর হিসেবে যারা জয়ী হয়েছেন তারা আওয়ামী লীগের সমর্থক। আমি আওয়ামী লীগ সমর্থক প্রার্থীদের জয়ী করতে নির্বাচনী মাঠে কাজ করেছি।

জানতে চাইলে জামালখান ওয়ার্ডের কাউন্সিলর শৈবাল দাশ সুমন বলেন, চট্টগ্রামের আওয়ামী রাজনীতিতে আ জ ম নাছির উদ্দিনের ভূমিকা ও ত্যাগ স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। তিনি আরও বলেন,  মনোনয়ন চেয়ে না পাওয়া এই রাজনীতিবিদ দলের অন্য একজনকে মেয়র নির্বাচিত করতে রাতদিন যে পরিশ্রম করেছেন, তা রাজনীতির ইতিহাসে উদাহরণ হয়ে থাকবে।

Alert! This website content is protected!