বি.দ্রঃদৈনিক নতুন ভাবনাপত্রিকায় প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার সম্পূর্ন লেখকের/প্রতিনিধির।আমরা লেখক প্রতিনিধির চিন্তা ও মতামতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল।প্রকাশিত লেখার সাথে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল সবসময় নাও থাকতে পারে।তাই যে কোনো লেখার জন্য অত্র পত্রিকার কর্তৃপক্ষ দায়ী নয়।

তাজা খবর

তারা আমাদের অংহকার আমাদের গৌরব ও সংবিধান স্বীকৃত জাতির পিতাকে আক্রমন করেছে; জেলা দায়রা জজ

গিয়াস উদ্দিন রানাঃ কুষ্টিয়া জেলায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাস্কর্য ভাঙ্গার প্রতিবাদে চাঁদপুর জেলায় কর্মরত জেলা পর্যায়েরসরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে চাঁদপুর জেলা
শিল্পকলা একাডেমীতে।
শনিবার ১২ ডিসেম্বের’২০ইং সকাল সাড়ে ১০ টায় জেলা প্রশাসনের আয়োজনে জেলা
শিল্পকলা একাডেমিতে এ প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিবাদ সভার শুরুতে
পবিত্র কুরআন থেকে তেলওয়াত করেন কালেক্টরেট মসজিদের ইমাম মাওলানা মোশারফ হোসেন। প্রতিবাদ সভার সঞ্চালনা করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোঃ
আবদুল্লাহ আল মাহমুদ জামান।
প্রতিবাদ সভায় চাঁদপুর জেলা দায়রা জজ এস এম জিয়াউল হক বলেন, আমরা জানি
বিজয় দিবস অবগত ডিসেম্বর মাস। এটা বাঙ্গালী জাতির অত্যন্ত আনন্দের একটা
মাস আবার অত্যন্ত পরিতাপেরও কারণ এই বিজয় দিবসের প্রাক্কালে ১৪ ডিসেম্বর
আমরা শহীদ বুদ্ধিজীবীদের আমরা হারিয়েছি এই ডিসেম্বর মাসেই। বাঙ্গালী জাতির ইতিহাস, সেই ইতিহাসের সবচেয়ে বড় অর্জন হচ্ছে আমাদের স্বাধীনতা, এই স্বাধীনতাকে এনে দিয়েছেন হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙ্গালী জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
তিঁনি বলেন, আমরা জানি বঙ্গবন্ধু বাঙ্গালী জাতির জন্য বাংলার মানুষের জন্য যে ত্যাগ স্বীকার করেছেন তা পৃথিবীতে বিরল। বঙ্গবন্ধু তাঁর জীবনের বেশির ভাগ সময় কারাগারে কাটিয়েছেন, কাটাতে হয়েছে। তিঁনি বাংলার মানুষকে যতটা ভালোবেসেছে আমরা বিশ্বাস করি সেই বাঙ্গালী জাতি তাঁকে অনরুপ ভালোবাসেননি। এবং তিনি সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করেছেন। বঙ্গবন্ধুর জীবদ্দশাতে বলে গেছেন, যে তাঁর সবচেয়ে শক্তি হচ্ছে তিনি
বাংলার মানুষকে ভালোবাসেন, এবং তাঁর সবচেয়ে দূর্বলতা হচ্ছে তিঁনি বাংলার
মানুষকে বড় বেশি ভালোবাসেন। অথচ আমাদের দূর্ভাগ্য সেই যে ভালোবাসার
মানুষটি আমাদের জাতির পিতা আমাদের দেশেরই কিছু কুলাঙ্গার দেশি বিদেশী
চক্র মিলে ১৫ আগস্ট নির্মমভাবে তাঁকে হত্যা করে।
তিঁনি আরো বলেন, বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর থেকে আসলে আমাদের বাংলাদেশ গভীর অন্ধকারের দিকে নিমজ্জিত হয়, আমাদের উদয়ন, স্বাধীনতা সব কিছুই একবারে নিঃশেষ হতে থাকে। আমাদের পরম আরেকটি সৌভাগ্য যে আমাদের বর্তমান মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তিঁনি বিদেশে থাকার কারণে প্রাণে বেঁচে জান এবং তাঁর বোন জনাবা শেখ রেহেনা। বঙ্গবন্ধুকে হত্যার মধ্য দিয়ে দেশেতো বটেই বিদেশে বাঙ্গালী জাতি হিসেবে অমরা অকৃজ্ঞ জাতি হিসেবে পরিচিত পেয়েছিলাম। কারণ আমরা আমাদের পিতাকে হত্যা করেছি। আমাদের বর্তমান মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যখন ৯৬ সালে সরকার গঠন করেন, পরবর্তীতে তাঁর নেতৃত্বে দেশ যখন ধীরে ধীরে এগিয়ে যায় এবং তাঁর নির্দেশনাতেই পরবর্তীতে বিচার বিভাগ পঁচাত্তরের যে খুনি তাদেরকে বিচারের
আওতায় এনে এবং তাদের ফাঁশির রায় কার্যকর করে আমরা মুলতঃ সেই কলঙ্ক থেকে
মুক্তি পেয়েছি।
বর্তমান মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নেতেৃত্ব দেশ যখন এগিয়ে যাচ্ছে, তখন আবার সেই মুক্তিযোদ্ধের যে চেতনা, আমাদের যে অংহকার, আমাদের গৌরভ এবং সংবিধান স্বীকৃত যে আমাদের জাতির পিতা তাঁকে আক্রমন করা হয়েছে। কিছু দুস্কৃতিকারী কিছু অভিনস্বকারী আমি বলবো তারা এই অপকর্ম করেছে। আমি চাই, আমরা চাই যারা এই ধরণের দৃষ্টতা দেখিয়েছে তাদের আইনের আওতায় এনে সর্বোচ্চ শাস্তি দেয়া হউক। তারাই নয় তাদের যারা পৃষ্ঠপোষকতা করেছেন তাদেরকেও আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমুলক শাস্তি ব্যবস্থা করা হউক। একটি
বিষয় আমি বলবো ভাস্কর্য, শিল্প, শিল্পকর্ম চিত্রশিল্প ক্যালিওগ্রাফি বা ফটোগ্রাফ এগুলো সর্বজন স্বীকৃত, নন্দিত শিল্প মাধ্যম। শিল্প সংস্কৃতি আসলে আমাদের ইতিহাসকে ধারণ করে। শিল্প সংস্কৃতির মাধ্যমে আমরা আমাদের
ইতিহাসকে জানতে পারি কিভাবে আমরা আজকে এখানে এসেছি আমাদের অতীত কি ছিল তা বুঝতে পারি।
প্রতিবাদ সভায় আরো বক্তব্য রাখেন, চাঁদপুর জেলা দায়রা জজ এস এম জিয়াউল
হক, পুলিশ সুপার মাহবুবুর রহমান (পিপিএম বার), চিফজুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট সামসুল ইসলাম, চাঁদপুর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল
হাসাপাতলের তত্ত্বাবধায়ক ডাঃ হাবিবুল কবির, সিভিল সার্জন সাখাওয়াত উল্ল্যা, চাঁদপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কানিজ ফাতেমা, এলজিইডি’র নির্বাহী প্রকৌশলী ইউনুস বিশ্বাস, জেলা আনসার বিডিপি এ্যাডজুটেন্ট’র
সহকারি পরিচালক ইব্রাহিম খলিল, জেলা কৃষি অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক
জালাল উদ্দিন, বাংলাদেশ কালেক্টরেট সমিতি কেন্দ্রীয় কমিটির উপদেষ্টা সাইফুল ইসলাম এবং চাঁদপুর জেলা ৩য় ও ৪র্থ শ্রেণী কর্মকর্তা-কর্মচারী সমিতির সভাপতি মিজানুর রহমান প্রমুখ।
প্রতিবাদ সভায় উপস্থিত ছিলেন, চাঁদপুর জেলায় কর্মরত জেলা পর্যায়ের সরকারি
সর্বস্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ।
Alert! This website content is protected!