বি.দ্রঃদৈনিক নতুন ভাবনাপত্রিকায় প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার সম্পূর্ন লেখকের/প্রতিনিধির।আমরা লেখক প্রতিনিধির চিন্তা ও মতামতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল।প্রকাশিত লেখার সাথে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল সবসময় নাও থাকতে পারে।তাই যে কোনো লেখার জন্য অত্র পত্রিকার কর্তৃপক্ষ দায়ী নয়।

তাজা খবর

নওগাঁর বদলগাছীতে অফিস না করে বেতন ভোগের অভিযোগ এক পিয়নের বিরুদ্ধে

নুরুজ্জামান লিটন, জেলা প্রতিনিধি নওগাঁ ঃ-
নওগাঁ জেলার বদলগাছী উপজেলার কোলা আদর্শ ডিগ্রী কলেজে ২৫ বছর অফিস না করে বেতন ভাতা উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে পিয়ন ওয়াহেদুল ইসলাম লিটনের বিরুদ্ধে।
কর্মস্থলে না এসে ২৫ বছর বহাল তবিয়তে কলেজের কাগজ কলমে রয়েছে পিয়ন লিটন। শুধু উপস্থিত খাতায় ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্রে সহি স্বাক্ষর করে বেতন ভাতা উত্তোলন করে বসে খাচ্ছে উক্ত পিয়ন কোন খুঁটির জোরে, এমন প্রশ্ন এখন কোলা এলাকাবাসীর মুখে-মুখে।
১৯৯৫ সালে উপজেলার কোলা ইউনিয়নের কোলা হাটের পুর্ব পার্শ্বে প্রতিষ্টিত হয় কোলা আদর্শ ডিগ্রী কলেজটি। পিয়ন পদে চাকুরী দেওয়ার শর্তে ১৯৯৫ সালে এই কলেজের নামে জমি দান করেন কোলা সরকার পাড়া গ্রামের ওয়ারেছ আলী সরকারের ছেলে ওয়াহেদুল ইসলাম লিটন।
লিটন ঐ বছর পিয়ন পদে চাকুরীতে যোগদান করেন। এরপর থেকে লিটন কলেজে না এসেই আজ অবধি বহাল তবিয়তে চাকুরী করছেন। ২/৩ মাস পর পর লিটন কলেজে এসে হাজিরা খাতাসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্রে সহি স্বাক্ষর করে। তার এই অনৈতিক কাজে সহযোগিতার অভিযোগ রয়েছে অধ্যক্ষ আলহাজ্ব আলাউদ্দিনের বিরুদ্ধে।
ছয় কর্মদিবস সরেজমিনে কলেজে গিয়ে পিয়ন ওয়াহেদুল ইসলাম লিটনকে না পেয়ে মোবাইল ফোনে কলেজে না আসার বিষয়ে জানতে চাইলে সে বলে,জমি দান করে চাকুরী নিয়েছি। মোবাইল ফোনে নয় সামনা সামনি কথা হবে। ২৫ বছর কলেজে কর্ম না করে কি ভাবে চাকুরী করছেন, তা জানতে চাইলে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যান।
কোলা আদর্শ ডিগ্রী কলেজের ম্যানেজিং কমিটির সদস্য হারুন অর রশিদের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন এই কলেজে কোন নিয়ম- শৃঙ্খলার বালাই নেই। পিয়ন লিটন কলেজে আসেনা সেটা যেমন সত্য, পাশা-পাশি অধ্যক্ষ আলহাজ্ব আলাউদ্দিন নিজেও ঠিকমতো কলেজে আসে না।কলেজের নিয়ম-শৃঙ্খলার বিষয়ে অধ্যক্ষ আলাউদ্দিনের সাথে বিভিন্ন আলোচনা করতে চাইলে তিনি কোন কর্ণপাত করেন না।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ম্যানেজিং কমিটির এক সদস্য বলেন কলেজটি ১৯৯৭ সালে এমপিওভুক্ত হয়। এমপিওভুক্তির পর থেকে পিয়ন লিটন বেতনভাতা ও অন্যান্য সুবিধা ভোগ করছেন।
কোলা ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য ও ঐ কলেজের মানেজিং কমিটির সদস্য আবু সাঈদ আঙ্গুর বলেন,পিয়ন লিটন কলেজে না এসেও বেতন ভাতা সহ অন্যান্য সুবিধা ভোগ করার বিষয়ে অধ্যক্ষকে অভিযোগ করেও কোন কাজ হয় না।
ম্যানেজিং কমিটির শিক্ষক প্রতিনিধি এবং ঐ কলেজের সহকারী অধ্যাপক তানসেন হোসেন ও নাম প্রকাশ না করার শর্তে অপর এক শিক্ষক জানান,বিষয়টি শতভাগ সত্য।
অধ্যক্ষ আলহাজ্ব আলাউদ্দিন জানান, বিষয়টি সঠিক নয় এবং অভিযোগ সত্য নয়। কোলা আদর্শ কলেজের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুহাঃ আবু তাহির বলেন, পিয়নের কর্মস্থলে না আসার বিষয়টি শুনেছি। খুব শীঘ্রই তদন্ত করে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে এবং প্রয়োজনে তার বেতন ভাতা বন্ধ রাখা হবে।
Alert! This website content is protected!