বি.দ্রঃদৈনিক নতুন ভাবনাপত্রিকায় প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার সম্পূর্ন লেখকের/প্রতিনিধির।আমরা লেখক প্রতিনিধির চিন্তা ও মতামতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল।প্রকাশিত লেখার সাথে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল সবসময় নাও থাকতে পারে।তাই যে কোনো লেখার জন্য অত্র পত্রিকার কর্তৃপক্ষ দায়ী নয়।

তাজা খবর

নওগাঁর মান্দা থানা পুলিশের ব্যতিক্রমী উদ্যোগ 

নাজমুল হক নওগাঁ প্রতিনিধিঃ-
নওগাঁর মান্দা উপজেলার দক্ষিণ মৈনম গ্রাম ও সদর উপজেলার পানিশাইল গ্রামের উভয় সীমান্তে জমি নিয়ে দু’পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিলো। বারবার জমির জের ধরে দু-পক্ষই সংঘর্ষে লিপ্ত হতো। এলাকাবাসীও এ নাজুক অবস্থা নিয়ে আশংকায় থাকতেন। কিন্তু দীর্ঘদিনের এ সমস্যার সমাধানে এগিয়ে আসে মান্দা থানা পুলিশ।  মান্দা থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ শাহিনুর রহমান ও ইন্সপেক্টর (তদন্ত) সিদ্দিকুর রহমানের উদ্যোগে রবিবার(০৩ জানুয়ারী) দু‘পক্ষের এ বিরোধ নিষ্পত্তি করা হয়েছে। ফলে বড় ধরনের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের হাত থেকে রক্ষা পেয়েছেন স্থানীয় লোকজন।
সরেজমিনে জানা যায়, বিরোধীয় জমিজমাকে কেন্দ্র করে পক্ষ দ্বয়কে নিয়ে গ্রামবাসী সম্প্রতি দু‘ভাগে বিভক্ত হয়ে যায়। যার একপক্ষে ওই গ্রামের মৃত মজিবর রহমানের ১ম স্ত্রী রোকেয়া বিবি ও তার ছেলে ফারুক হোসেন  এবং ২য় স্ত্রী মর্জিনা বিবি ও তার মেয়ে-জামাই আরেক পক্ষে অবস্থান করেন।
সম্প্রতি একদিকে ফারুক হোসেন এবং অন্যদিকে মর্জিনা বিবি বাদী হয়ে নওগাঁর বিজ্ঞ আদালতে ১৪৪/১৪৫ ও ১০৭ ধারায় উভয় পক্ষের বিরুদ্ধে  একাধিক ব্যক্তিকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন। আদালত আইনশৃংখলা রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য মর্জিনার মামলায় মান্দা থানার ওসিকে এবং ফারুকের মামলায় নওগাঁ সদর থানার ওসিকে নিদের্শ প্রদান করেন।
এরই প্রেক্ষিতে উভয় থানা পুলিশ উভয় পক্ষকে নোটিশ প্রদান করেন। এতে বড় ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনার আশংকায় ছিলো। এ অবস্থায় বিষয়টি সমাধানের উদ্যোগ নেন মান্দা থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ শাহিনুর রহমান  ও ইন্সপেক্টর (তদন্ত) সিদ্দিকুর রহমান। তারা এএসআই মোহসীন আলীর মাধ্যমে উভয় পক্ষকে নিয়ে বৈঠকে বসে স্থানীয়দের সহায়তায় উভয়ের সম্মতিতে অংশ মোতাবেক জমি বন্টন করে দেন। পাশাপাশি দুপক্ষের সকল মামলা নিজ নিজ দায়িত্বে তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্তের মাধ্যমে বিষয়টির শান্তিপূর্ন সমাধান করেন। পুলিশের হস্তক্ষেপে বিষয়টি নিষ্পত্তি হওয়ায় এলাকার পরিস্থিতি এখন স্বাভাবিক। স্থানীয় লোকজনেরাও এ বিষয়ে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন।  পুলিশ প্রশাসনকে ধন্যবাদ জানান তারা।
এবিষয়ে মর্জিনা বিবি এবং ফারুক হোসেন বলেন, দু’একজনের প্ররোচনার কারণে  আমাদের মধ্যে জমাজমি নিয়ে একাধিক মামলা হয়েছিল। মান্দা থানা পুলিশের সহায়তায় আমরা আমাদের জমি অংশ মোতাবেক বুঝে পেয়েছি। আমরা সবাই আপোষ মিমাংসা হয়ে গেছি এখন আমাদের মধ্যে আর কোন সমস্যা নেই।
মান্দা থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ শাহিনুর রহমান বলেন, প্রথমত বিরোধীয় অধিকাংশ জমি এবং পক্ষদ্বয়ের বাড়ি আমার থানা সীমানার বাইরে নওগাঁ সদর উপজেলার পানিশাইল গ্রামে হওয়ায় আমার পক্ষে এবিষয়ে কোন প্রকার হস্তক্ষেপ করা সম্ভব ছিলনা। দ্বিতীয়ত এবিষয়ে উভয় পক্ষই বিজ্ঞ আদালতে একাধিক মামলা দায়ের করায় আদালতের নির্দেশনার বাইরে আমার কোন কিছু করার সুযোগ নেই। বিরোধীয় মাত্র ৩শতক জমির অবস্থান মান্দা উপজেলার দক্ষিণ মৈনম গ্রামে হওয়ায় মানবিক কারণে আমি উভয় পক্ষকে একত্রে বসিয়ে স্থানীয়দের সহায়তায় আপোষ মীমাংসা করার চেষ্টা করেছি।
Alert! This website content is protected!