বি.দ্রঃদৈনিক নতুন ভাবনাপত্রিকায় প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার সম্পূর্ন লেখকের/প্রতিনিধির।আমরা লেখক প্রতিনিধির চিন্তা ও মতামতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল।প্রকাশিত লেখার সাথে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল সবসময় নাও থাকতে পারে।তাই যে কোনো লেখার জন্য অত্র পত্রিকার কর্তৃপক্ষ দায়ী নয়।

তাজা খবর

পরিবেশ বন্ধু শিক্ষক নাদের আলী

সুমন শান্ত, মোহনপুর থেকে : 
প্রতি সাপ্তাহিক ছুটির দিনে কর্মব্যস্ততায় মেতে ওঠেন শিক্ষক নাদের আলী। ব্যক্তিগত কোনো স্বার্থ উদ্ধারের চেষ্টা নয় পরিবেশের স্বার্থে, জনগণের স্বার্থে, এলাকাবাসীর স্বার্থে। পরিবেশ রক্ষায় নিরলসভাবে দীর্ঘদিন ধরে  কাজ করে আসছেন মোহনপুর উপজেলার জাহানাবাদ গ্রামের মৃত: আ:সামাদ প্রামাণিকের ছেলে নাদের আলী।
তিনি পেশায় একজন শিক্ষক হলেও নেই কোন অলসতা নেই কোন অহংকার আছে শুধু মানবতা ও পরিবেশ মানুষের প্রতি ভালোবাসা । শুধু পরিবেশের কাজ নয় তিনি এলাকার  অসহায় দরিদ্র মানুষের উপকার করেন। সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়ান।
রাজশাহী জেলার মোহনপুর উপজেলার জাহানাবাদ উচ্চ বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক হিসেবে চাকরি করেন। এর পাশাপাশি সেচ্ছাসেবী হিসেবে সমাজের মানুষের জন্য কাজ করে থাকেন। বর্ষাকালে অসহায় দরিদ্র মানুষের বাড়ি মেরামত করেছেন। যাদের বাড়ি ভেঙে গিয়েছিল এলাকাবাসীর কাছে থেকে চাঁদা তুলে তাদের বাড়ি মেরামত করে দিয়েছেন।
শিক্ষক নাদের আলী জাহানাবাদ বাজার ও বাজার সংশ্লিষ্ট সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, রাস্তা-ঘাট, পাবলিক টয়লেট, ড্রেন ইত্যাদি নিজ হাতে পরিস্কার করেন। একটু সময় পেলে এলাকার রাস্তাঘাট পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরু করেন।
শিক্ষক নাদের আলীর সাথে সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, যখন আমি পরিবেশ রক্ষায় পাবলিক টয়লেট পরিস্কারের মত কাজ করি, এজন্য আমার সহকমীবৃন্দ, প্রতিবেশি ও আত্মীয় -স্বজন পাগল বলে, আরও কটু কথা শুনতে হয়েছে আমাকে। কিন্তু, আমি হাল ছাড়িনি। সকলের অসহযোগিতা, অবহেলা ও অবজ্ঞায় যখন আমি ক্লান্ত, তখন আমার পাশে ভরসা হয়ে দাঁড়ায় শতফুল বাংলাদেশ। পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন এর সহযোগিতায়, শতফুল বাংলাদেশ এর বাস্তবায়নে পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন এলাকা গড়ন কর্মসূচি’র আওতায় আমি আর্থিক সহযোগিতা ছাড়াও ডাস্টবিন স্থাপন, ঝুড়ি বিতরণ ও বাগান তৈরির জন্য সার্বিক সহযোগিতা পায়।
তিনি আরও বলেন,‘ শতফুল বাংলাদেশ পাশে থাকায় আজ আমি খুবই অনুপ্রাণিত, আনন্দিত ও সম্মানিত। জাহানাবাদ বাজার ও তার চারপাশ এখন শতভাগ পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন ও পরিবেশ বান্ধব।
 তিনি আরও বলেন, আমি ১৯৯৫ সালের ছাত্র জীবনে আমি দেখতে পাই আমার এলাকার দারিদ্র্য কৃষকেরা পানির সংকটে ফসল ফলাতে পারছেন না। তখন আমি বরেন্দ্র প্রকল্প থেকে গভীর নলকূপ এর ব্যবস্থা করে দেই।তাছাড়া এতিম বাচ্চাদের যথেষ্ট সহযোগিতা করে থাকি।এ ছাড়াও দূর দূরান্ত থেকে কোন মানুষ এলাকায় কাজের জন্য আসলে তার থাকার ব্যবস্থা না থাকলে আমি আমার বাসাতে থাকতে দেই।আমার এলাকায় ছোট্ট শিশুদের কোর-আন শিক্ষার জন্য একটি মক্তব চালায় এলাকাবাসীর সহযোগিতায়।জাহানাবাদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে যারা ভালো ফলাফল করে তাদের হাতে পুরুষ্কার তুলে দেই।
শিক্ষক নাদের আলী বলেন যদি কোন সরকারি সহায়তা বা অনুদান দেই আমাকে তাহলে সেই অনুদান দিয়ে এলাকার গরিব অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে আরো এক ধাপ আমি আমার কাজে এগিয়ে যেতে পারবো। তাছাড়া জাহানাবাদ-সহ আশে পাশের এলাকা  রক্ষায় নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছি। মানুষের ভালোবাসা ও দোয়া নিয়ে বাকিটা জীবন এভাবেই মানুষের পাশে থেকে কাজ করে যেতে চাই।
Alert! This website content is protected!