বি.দ্রঃদৈনিক নতুন ভাবনাপত্রিকায় প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার সম্পূর্ন লেখকের/প্রতিনিধির।আমরা লেখক প্রতিনিধির চিন্তা ও মতামতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল।প্রকাশিত লেখার সাথে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল সবসময় নাও থাকতে পারে।তাই যে কোনো লেখার জন্য অত্র পত্রিকার কর্তৃপক্ষ দায়ী নয়।

তাজা খবর

বলছি এক অমর কাব্যের কথা

নতুন ভাবনা ডেস্কঃ

আজ থেকে ঠিক ৪৯ বছর আগে বাঙালির স্বাধীনতার পথপ্রদর্শক বঙ্গবন্ধু
ঐতিহাসিক রেসকোর্স ময়দানে তাঁর জীবনের শ্রেষ্ঠ ভাষণটি দিয়েছিলেন। ১০
লক্ষাধিক লোকের সম্মুখে পাকিস্তানি দস্যুদের কামান-বন্দুক-মেশিনগানের
হুমকির মুখে বঙ্গবন্ধু ওই দিন বজ্রকণ্ঠে ঘোষণা করেন- ‘এবারের সংগ্রাম
আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।

১৯৭০ খ্রিষ্টাব্দে আওয়ামী লীগ পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ
সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। কিন্তু পাকিস্তানের সামরিক শাসকগোষ্ঠী এই
দলের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরে বিলম্ব করতে শুরু করে। প্রকৃতপক্ষে তাদের
উদ্দেশ্য ছিল, যে-কোনভাবে ক্ষমতা পশ্চিম পাকিস্তানী রাজনীতিবিদদের হাতে
কুক্ষিগত করে রাখা। এই পরিস্থিতিতে পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট জেনারেল
ইয়াহিয়া খান ৩রা মার্চ জাতীয় পরিষদ অধিবেশন আহ্বান করেন। কিন্তু
অপ্রত্যাশিতভাবে ১লা মার্চ এই অধিবেশন অনির্দিষ্টকালের জন্য মুলতবি
ঘোষণা করেন। এই সংবাদে পূর্ব পাকিস্তানের জনগণ বিক্ষোভে ফেটে
পড়ে। আওয়ামী লীগ প্রধান শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে ২রা মার্চ ঢাকায়
এবং ৩রা মার্চ সারাদেশে একযোগে হরতাল পালিত হয়। তিনি ৩রা
মার্চ পল্টন ময়দানে অনুষ্ঠিত এক বিশাল জনসভায় সমগ্র পূর্ব বাংলায়
সর্বাত্মক অসহযোগ আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করেন। এই পটভূমিতেই
৭ই মার্চ রেসকোর্স ময়দানের জনসভায় বিপুল সংখ্যক লোক একত্রিত হয়;
পুরো ময়দান পরিণত হয় এক জনসমুদ্রে। এই জনতা এবং সার্বিকভাবে সমগ্র
জাতির উদ্দেশ্যে শেখ মুজিবুর রহমান তার ঐতিহাসিক ভাষণটি প্রদান
করেন।

তিনি উক্ত ভাষণ বিকেল ২টা ৪৫ মিনিটে শুরু করে বিকেল ৩টা ৩ মিনিটে
শেষ করেন। উক্ত ভাষণ ১৮ মিনিট স্থায়ী হয়। এই ভাষণে তিনি তৎকালীন

পূর্ব–পাকিস্তান  (বর্তমানে বাংলাদেশ) বাঙালিদেরকে স্বাধীনতা সংগ্রামের জন্য
প্রস্তুত হওয়ার আহ্বান জানান। এই ভাষণের একটি লিখিত ভাষ্য অচিরেই
বিতরণ করা হয়েছিল। এটি তাজউদ্দীন আহমদ কর্তৃক কিছু পরিমার্জিত
হয়েছিল। পরিমার্জনার মূল উদ্দেশ্য ছিল সামরিক আইন প্রত্যাহার এবং
নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের দাবীটির ওপর গুরুত্ব
আরোপ করা। ১২টি ভাষায় ভাষণটি অনুবাদ করা
হয়৷ নিউজউইক ম্যাগাজিন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে
রাজনীতির কবি হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।

ইউনেস্কো সদর দপ্তরে বাংলাদেশ দূতাবাস, প্যারিস ও ইউনেস্কোতে
বাংলাদেশের স্থায়ী মিশন কর্তৃক প্রকাশিত “The Historic 7th March Speech
of Bangabandhu Sheikh Mujibur Rahman: A World Documentary
Heritage” শীর্ষক গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন করা হয়। ইংরেজি, ফ্রেঞ্চ,
স্প্যানিশ, আরবী, রুশ ও চীনা ভাষাভাষী ১২ জন রাষ্ট্রদূত ও ইউনেস্কোতে
স্থায়ী প্রতিনিধিরা গ্রন্থটির মোড়ক উন্মোচন করেন।

২০১৭ সালে এ ঐতিহাসিক ভাষণ ইউনেস্কো এর মেমোরি অব দ্য ওয়ার্ল্ড
রেজিস্টারে বিশ্ব প্রামাণ্য ঐতিহ্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয়। এই প্রথম বঙ্গবন্ধুর
ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণ জাতিসংঘের সকল দাপ্তরিক ভাষায় অনুদিত
হল। ইউনেস্কো সদর দপ্তরে কোভিড পরিস্থিতি বিবেচনায় শুধুমাত্র আমন্ত্রিত
অতিথিদের উপস্থিতিতে গ্রন্থটির মোড়ক উন্মোচন করা হয় এবং দূতাবাসের
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনুষ্ঠানটি সরাসরি সম্প্রচার করা হয়।
প্রকাশিত এ গ্রন্থে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও
শিক্ষামন্ত্রীর বিশেষ বাণী অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। যৌথভাবে “The Historic 7th
March Speech of Bangabandhu Sheikh Mujibur Rahman: A World
Documentary Heritage” গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন করেন ইউনেস্কোতে নিযুক্ত

অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ড, ফ্রান্স, আইভোরি কোস্ট, সেনেগাল, স্পেন, কিউবা,
সৌদি আরব, মৌরিতানিয়া, কুয়েত, রাশিয়া, চীন ও বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ও
স্থায়ী প্রতিনিধিরা।

মাসুদ রানা
শিক্ষার্থী, রয়েল মিডিয়া কলেজ, ময়মনসিংহ
সদস্য, জামালপুর -৩ আসন,
বাংলাদেশ প্রজন্ম সংসদ।
ই-মেইল–[email protected]

Alert! This website content is protected!