বি.দ্রঃদৈনিক নতুন ভাবনাপত্রিকায় প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার সম্পূর্ন লেখকের/প্রতিনিধির।আমরা লেখক প্রতিনিধির চিন্তা ও মতামতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল।প্রকাশিত লেখার সাথে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল সবসময় নাও থাকতে পারে।তাই যে কোনো লেখার জন্য অত্র পত্রিকার কর্তৃপক্ষ দায়ী নয়।

তাজা খবর

 বানারীপাড়ায় ষড়যন্ত্রের শিকার দাবী করে ইউপি চেয়ারম্যান খিজির সরদার’র সংবাদ সম্মেলন

বানারীপাড়া(বরিশাল) প্রতিনিধি ॥
বরিশালের বানারীপাড়া উপজেলার চাখার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি খিজির সরদার ও তার ভাই সেলিম সরদারকে জড়িয়ে একটি মামলার বরাতে সংবাদ প্রকাশের বিরুদ্ধে  সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার ১৩ জানুয়ারি সন্ধ্যায় চাখার ইউনিয়ন পরিষদের হলরুমে ইউপি চেয়ারম্যান খিজির সরদার এ সংবাদ সম্মেলন করেন। এ সময় তিনি তার লিখিত বক্তব্যে বলেন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন আসন্ন হওয়ায় স্থানীয় একটি কুচক্রি মহল তার এবং পরিবারের বিরুদ্ধে গভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে। গত নির্বাচনে তিনি নৌকা প্রতীকে রেকর্ড সংখ্যক ভোটে নির্বাচিত হয়ে গোটা এলাকাকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উন্নয়নের ছোঁয়ায় তিলোত্তমা রূপ দিয়েছেন। এছাড়া এলাকাকাকে মাদক,ইভটিজিং,বাল্যবিয়ে ও সন্ত্রাসমুক্ত জনপদে রূপান্তর করা হয়েছে। এতে ঈর্ষান্বিত হয়ে পরাজিত শক্তি তার বিরুদ্ধে নানা ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে। এর অংশ হিসেবে তার বড় মেয়ের জা’য়ের ধর্ষণের ঘটনাকে পুঁজি করে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে বলে তিনি দাবী করেন। ইউপি চেয়ারম্যান খিজির সরদার লিখিত বক্তব্যে বলেন, তার মেয়ের জা’কে ২৪ ডিসেম্বর  সকাল ১০টার দিকে  ঘরে একা পেয়ে একই এলাকার আন্টু হাওলাদার নামের এক লম্পট মুখ ও দু’হাত বেধে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। ভিকটিমের স্বামী বাবুল হাওলাদার চাখার বাজারের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে বাড়িতে ফিরে স্ত্রীকে ধর্ষণ করতে দেখে লম্পট আন্টু হাওলাদারকে হাতেনাতে ধরে ফেলে ডাক চিৎকার দেয়। এসময় আন্টুর ভগ্নিপতি সেলিম হাওলাদার ঘটনাস্থলে এসে তাকে  ছিনিয়ে নেয়। বাবুল হাওলাদার মুঠোফোনে তাৎক্ষনিক বিষয়টি তার তায়ই চাখারের ইউপি চেয়ারম্যান খিজির সরদার ও সেলিম সরদারকে জানান। ওই দুপুরে লম্পট আন্টু হাওলাদার ও ধর্ষিতা ওই গৃহবধুকে স্থানীয়রা চাখার ইউপি চেয়ারম্যান খিজির সরদারের বাড়িতে নিয়ে যান। তিনি ভিকটিম,তার স্বামী ও স্থানীয়দের কাছ থেকে ঘটনার বিস্তারিত শোনেন। এসময় খিজির সরদার বিষয়টির বিচার তার এখতিয়ার বর্হিভূত হওয়ায় আইনের দ্বারস্থ হওয়ার পরামর্শ দিয়ে তার বেয়াই আ. লতিফ হাওলাদারের হাতে ভিকটিম পুত্রবধুকে তুলে দিয়ে বাড়িতে পাঠিয়ে দেন। গত ১১ জানুয়ারী বরিশাল নারী ও শিশু নির্যাতন দমন বিশেষ ট্রাইব্যুনালে ভিকটিম বাদী হয়ে লম্পট আন্টু হাওলাদার তার ভগ্নিপতি সেলিম হাওলাদার ও ইউপি চেয়ারম্যান খিজির সরদারের  ভাই সেলিম সরদারকে আসামী করে মামলা দায়ের করেন। ওই মামলার বরাত দিয়ে ইউপি চেয়ারম্যান খিজির সরদার ও তার ভাই সেলিম সরদারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন জাতীয়,আঞ্চলিক পত্রিকা ও অনলাইন নিউজ পোর্টালে সংবাদ প্রকাশিত হয়। এর প্রতিবাদে বুধবার সন্ধ্যায় ইউপি চেয়ারম্যান খিজির সরদার সংবাদ সম্মেলন  করে তিনি ইউপি নির্বাচনী রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের শিকার বলে দাবী করে এর প্রতিবাদ জানান। সংবাদ সম্মেলনে তার বেয়াই ও ভিকটিমের শ্বশুর আ. লতিফ হাওলাদার,ভাসুর সাবেক পুলিশ কনস্টেবল দেলোয়ার হোসেন ও ফারুক হোসেন উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও উপজেলা আওয়ামী লীগের ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক মাওলানা আঃ হাইয়ান,সদস্য আ.মোতালেব হাওলাদার,ইউপি সদস্য মালেক সরদার,মাষ্টার সিদ্দিকুর রহমান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। এদিকে মামলার বাদী ভিকটিম ও তার স্বামী নিজেদের নিরক্ষর দাবী করে বলেন ইউপি চেয়ারম্যান খিজির সরদারের ভাই সেলিম সরদারকে স্বাক্ষীর স্থলে আসামী করা ও  মামলার বিবরনে ইউপি চেয়ারম্যান খিজির সরদারের বিরুদ্ধে যা লেখা হয়েছে  সে বিষয়ে তারা কিছুই জানেন না। তারা মামলার কপি পড়তে না পারার সুযোগে এটা করা হয়েছে। মামলা থেকে সেলিম সরদারের নাম প্রত্যাহারসহ এ বিষয়ে তারা আদালতে লিখিতভাবে জানাবেন বলে জানান।

Alert! This website content is protected!