বি.দ্রঃদৈনিক নতুন ভাবনাপত্রিকায় প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার সম্পূর্ন লেখকের/প্রতিনিধির।আমরা লেখক প্রতিনিধির চিন্তা ও মতামতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল।প্রকাশিত লেখার সাথে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল সবসময় নাও থাকতে পারে।তাই যে কোনো লেখার জন্য অত্র পত্রিকার কর্তৃপক্ষ দায়ী নয়।

তাজা খবর

মানব উন্নয়ন সূচকে দুই ধাপ অগ্রগতি বাংলাদেশের

নতুন ভাবনা ডেস্কঃ-

মানব উন্নয়ন সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান দুই ধাপ এগিয়েছে। জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির (ইউএনডিপি) মানব উন্নয়ন সমীক্ষায় আগের বছরের চেয়ে ২০১৯ সালে দুই ধাপ এগিয়ে তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান দাঁড়িয়েছে ১৩৩তম। দক্ষিণ এশিয়ার আট দেশের মধ্যে তালিকায় বাংলাদেশ পঞ্চম অবস্থানে রয়েছে। চলতি বছর পরীক্ষামূলকভাবে সংযোজিত পরিবেশের প্রভাবজনিত সমন্বিত মানব উন্নয়ন সূচক অনুযায়ী বাংলাদেশের উন্নয়ন ঘটেছে নয় ধাপ। তবে দুই দশকের ব্যবধানে এ সূচকে বাংলাদেশে প্রবৃদ্ধির হার নিম্নমুখী।

‘দ্য নেক্সট ফ্রন্টিয়ার: হিউম্যান ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড অ্যানথ্রোপোসিন’ শীর্ষক এবারের প্রতিবেদনটির বৈশ্বিক উন্মোচনের ছয়দিন পর গতকাল তা বাংলাদেশে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়। এ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ইউএনডিপির এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলের সিনিয়র ইকোনমিক অ্যাডভাইজার বালাজ হোভার্থ সমন্বিত মানব উন্নয়ন সূচক সম্পর্কিত মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। অনুষ্ঠানে পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের সদস্য (সিনিয়র সচিব) ড. শামসুল আলম, সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাবেক সিনিয়র সচিব শহিদুল হক উপস্থিত ছিলেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের পয়েন্ট শূন্য দশমিক ৬৩২, যা ১৯৯০ সালে ছিল শূন্য দশমিক ৩৯৪। তালিকায় শীর্ষে থাকা নরওয়ের পয়েন্ট শূন্য দশমিক ৯৫৭। ১৯৯০-২০১৯ সময়ে বাংলাদেশের মানব উন্নয়ন সূচক বেড়েছে ৬০ দশমিক ৪ শতাংশ। আর ২০১৪ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত আট ধাপ অগ্রগতি হয়েছে। ২০১৯ সালে বাংলাদেশের সূচকের মান মধ্যম সারির দেশগুলোর গড় মানের চেয়ে বেশি ছিল। ১৯৯০ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের মানুষের প্রত্যাশিত গড় আয়ু বেড়েছে ১৪ বছর ৪ মাস, গড় শিক্ষাকাল বেড়েছে ৩ বছর ৪ মাস ও প্রত্যাশিত শিক্ষাকাল বেড়েছে ছয় বছর। এছাড়া এ সময়ে মাথাপিছু আয়ও বেড়েছে প্রায় ২২০ দশমিক ১ শতাংশ। কভিড-১৯ মহামারী সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে বড় সংকট হিসেবে আবির্ভূত হলেও পরিবেশের ওপর মানুষের ক্রমাগত অভিঘাত বন্ধ না হলে ভবিষ্যতেও মানবজাতিকে এ ধরনের সংকটের মুখোমুখি হতে হবে বলে প্রতিবেদনে সতর্ক করা হয়েছে। তালিকায় শীর্ষ পাঁচ দেশের মধ্যে রয়েছে নরওয়ে, আয়ারল্যান্ড, সুইজারল্যান্ড, হংকং-চীন, আইসল্যান্ড ও জার্মানি।

এদিকে মানব উন্নয়ন সূচকে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধির হার নিম্নমুখী। ১৯৯০-২০০০ সময়ে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি ছিল ১ দশমিক ৯৫ শতাংশ, যা ২০০০-২০১০ সময়ে ছিল ১ দশমিক ৫৪ শতাংশ। আর ২০১০-২০১৯ সময়ে এ প্রবৃদ্ধি ছিল ১ দশমিক ৪১ শতাংশ। ১৯৯০ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত মানব উন্নয়ন সূচকে বাংলাদেশের গড় প্রবৃদ্ধি ছিল ১ দশমিক ৬৪ শতাংশ।

দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে তালিকায় সবচেয়ে এগিয়ে শ্রীলংকা। শূন্য দশমিক ৭৮২ স্কোর নিয়ে দেশটি রয়েছে তালিকার ৭২তম স্থানে। এছাড়া মালদ্বীপ তালিকার ৯৫তম, ভুটান ১২৯, ভারত ১৩১, নেপাল ১৪২, পাকিস্তান ১৫৪ ও আফগানিস্তান ১৬৯তম স্থানে রয়েছে।

মানব উন্নয়ন সূচকের মাধ্যমে মূলত একটি দেশের মানুষের স্বাস্থ্য, শিক্ষা, জীবনযাত্রার সামগ্রিক অবস্থা পরিমাপ করা হয়। তবে এবার মানব উন্নয়ন সমীক্ষা প্রবর্তনের ৩০তম বার্ষিকীতে দুটি বিষয় নতুনভাবে যুক্ত করা হয়েছে। এর একটি হলো কার্বন ডাই-অক্সাইড নিঃসরণের মাত্রা ও অন্যটি মোট ব্যবহূত সম্পদের পরিমাণ। এবারের সমীক্ষায় পরীক্ষামূলকভাবে নতুন একটি সূচকও সংযোজন করা হয়েছে। সূচকে সমন্বিত পদ্ধতি প্রয়োগ বা মানুষ ও পরিবেশ উভয়ের কল্যাণের ওপর ভিত্তি করে মানব উন্নয়নকে চিন্তা করলে সমগ্র বিশ্বের উন্নয়নের চিত্র সম্পূর্ণ বদলে যায়। এ বছর ৫০টিরও বেশি দেশ জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর অধিক নির্ভরশীলতা ও প্রাকৃৃতিক সম্পদের ব্যাপক ব্যবহারের কারণে র্যাংকিংয়ের শীর্ষ তালিকা থেকে ছিটকে পড়েছে।

ইউএনডিপির মানব উন্নয়ন সমীক্ষা প্রতিবেদনে বাংলাদেশের অবস্থান প্রসঙ্গে পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নান বলেন, যতটা আশা করেছিলাম ততটা এগোতে পারিনি। তবে সার্বিকভাবে বৈশ্বিক অর্জনের বিবেচনায় আমাদের অর্জন বেশ ভালো। প্রতিবেদন কোনো সমাধান নয়, এটি আমাদের দুর্বলতার দিকগুলো তুলে ধরে। আমরা সেগুলো সমাধানে মনোনিবেশ করব। প্রয়োজনে অর্থ ও নীতিসহায়তা করব। গত ১০ বছরের বেশি সময়ে আমাদের যে অর্জন, সেটি নির্দেশ করে যে আমাদের কৌশল সঠিক ছিল। তবে সাম্প্রতিক সময়ে দারিদ্র্য, অন্যায্য ও অন্যায় জেঁকে বসেছে। দারিদ্র্যের শিকার মানুষের ভাগ্য ফেরাতে কাজ করা হবে। এছাড়া বাংলাদেশ সরকার পরিবেশ ও প্রকৃতির সুরক্ষায় সবসময় গুরুত্ব দিয়েছে।

বাংলাদেশে ইউএনডিপির আবাসিক প্রতিনিধি সুদীপ্ত মুখার্জি বলেন, কভিড-১৯-এ বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত সাত হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু হলেও এ মহামারীর সামগ্রিক প্রভাব আরো অনেক বিস্তৃত ও প্রকট। বহু পরিবার জীবিকা হারিয়ে দারিদ্র্যসীমার নিচে নেমে গেছে, আয়ের অসমতা বেড়েছে, লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা বেড়েছে ও লেখাপড়া থেকে দীর্ঘ বিরতির কারণে ছাত্র-ছাত্রীদের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা থেকে ঝরে পড়ার আশঙ্কা বেড়েছে। প্রকৃতি ও পরিবেশের ওপর মানুষের বিরূপ আচরণকে আমলে নিয়ে বিজ্ঞানীরা অনেক দিন ধরেই এ রকম একটি মহামারীর আশঙ্কা করছিলেন। এখন এমন কৌশল নিতে হবে, যার মাধ্যমে আমরা এ মহামারী ও দারিদ্র্য দূর করে, ডিজিটাল বৈষম্য কমিয়ে ও জলবায়ু সমস্যার সমাধান করে, মানুষ ও পরিবেশের সুরক্ষা নিশ্চিত করে উন্নয়নের পরবর্তী ধাপে পদার্পণ করতে পারি।

Alert! This website content is protected!