বি.দ্রঃদৈনিক নতুন ভাবনাপত্রিকায় প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার সম্পূর্ন লেখকের/প্রতিনিধির।আমরা লেখক প্রতিনিধির চিন্তা ও মতামতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল।প্রকাশিত লেখার সাথে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল সবসময় নাও থাকতে পারে।তাই যে কোনো লেখার জন্য অত্র পত্রিকার কর্তৃপক্ষ দায়ী নয়।

তাজা খবর

ম্রো আদিবাসীদের ভূমিতে হোটেল ও পর্যটন স্থাপনা নির্মাণের লিজ বাতিল ও পর্যটন স্থাপনা বন্ধ করা দাবী জানিয়েছেন; পিসিপি

আকাশ মার্মা মংসিং বান্দরবান
চিম্বুকের বুকে ম্রো আদিবাসীদের জায়গা দখল করে ফাইভ স্টার হোটেল ও পর্যটন স্থাপনা নির্মাণের লিজ বাতিল ও সকল প্রকার পর্যটন স্থাপনা বন্ধ করার জোর দাবী জানিয়েছে পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ী ছাত্র পরিষদ।
 আজ (২৫ নভেম্বর) এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে তারা এই দাবী জানিয়েছে।
এই দিকে গেল ২৩ শে নভেম্বর ও চিম্বুকে হোটেল ও পার্ক নির্মাণ বন্ধের আহ্বান জানিয়ে পার্বত্য মন্ত্রীর বরাবর খোলা চিঠি দিয়েছিলেন এ্যামনেষ্টি ইন্টারন্যাশনালের।  তবে সেই চিঠি কোন সমাধান আসতে না আসতে পিসিপি ও বন্ধের দাবী জানিয়েছেন।
সূত্রে বেশ কয়েকদিন আগে গত ২২ নভেম্বর ২০২০ তারিখে “চিম্বুক পাহাড়ে পর্যটন হোটেল স্থাপনের বিষয়ে” বান্দরবান জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ক্য শৈ হ্লা সংবাদ সম্মেলনের বিষয়টিকে চিম্বুক পাহাড়ের বুকে ম্রো আদিবাসীদের জায়গা দখল ও উচ্ছেদ করে ফাইভ স্টার হোটেল নির্মাণ ও পর্যটন স্থাপনা নিয়ে নিজের দায় এড়ানো হিসেবে দেখছে সংগঠনটি।
সংগঠনটি উক্ত প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে আরো উল্লেখ করে যে, বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদ আদিবাসী ম্রো জনগোষ্ঠীর সাথে সরাসরি প্রতারণা করেছে। কেননা কৃষি প্রযুক্তি ও উন্নত চাষাবাদ পদ্ধতি প্রদর্শনীর মাধ্যমে সেখানকার স্থানীয় জনগণের কৃষিভিত্তিক জীবিকা নির্বাহের পথ সুগম করার লক্ষ্যে স্থানীয় ম্রো জনগোষ্ঠীর সাথে আলাপ-আলোচনাক্রমে উক্ত তর্কিত জমিটি পরিষদের দখলে নেয়া হয়েছে।
কিন্তু সেই লক্ষ্যে কাজে না লাগিয়ে পরিষদ হীনস্বার্থে ‘পর্যটনের জন্য’ নিরাপত্তা বাহিনীর নিকট ৪০ বছরের মেয়াদে লীজ দেয়া হয়েছে। জমিটি দখলে নেয়ার পর পার্বত্য জেলা পরিষদ ‘কৃষি প্রযুক্তি ও উন্নত চাষাবাদ পদ্ধতি প্রদর্শনীর মাধ্যমে সেখানকার স্থানীয় জনগণের কৃষিভিত্তিক জীবিকা নির্বাহের পথ সুগম করার’ উদ্দেশ্যে ব্যবহার না করে, আদিবাসী ম্রো জনগোষ্ঠীর জীবন-জীবিকার জন্য ক্ষতিকারক, আদিবাসী জুম্ম জনগণের জাতীয় অস্তিত্ব ও সংস্কৃতির জন্য ধ্বংসাত্মক, জুম্ম জনগণের প্রথাগত ভূমি অধিকার পরিপন্থী তথা পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি ও চুক্তি মোতাবেক প্রণীত পার্বত্য জেলা পরিষদ আইনের সাথে সাংঘর্ষিক হওয়া সত্তেও পর্যটনের জন্য নিরাপত্তাবাহিনীকে লীজ দেয়া নি:সন্দেহে ম্রো জনগোষ্ঠীর সাথে প্রতারণার সামিল।
আদিবাসী ম্রো জনগোষ্ঠী, জুম্ম জনগণ ও দেশের মানবতাবাদী ব্যক্তিবর্গসহ পাহাড়ী ছাত্র পরিষদও তা কখনোই মেনে নিতে পারে না বলেও প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে আরো উল্লেখ করা হয় যে, হর্টিকালচারের নামে ২০ একর লীজ নেয়া জমি কোন নিরাপত্তা বাহিনী কিংবা কর্পোরেট কোম্পানিকে ইজারা দেয়ার আগে বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদ স্থানীয় ম্রো আদিবাসীদের সাথে আলোচনা করেনি। পার্বত্য জেলা পরিষদ, নিরাপত্ত বাহিনী ও সিকদার গ্রুপের মধ্যেকার ফাইভ স্টার হোটেল ও পর্যটন স্থাপনা নির্মাণের চুক্তি স্বাক্ষরের একটি খবর প্রকাশিত হয় (কক্সবাজারকণ্ঠ, ৮ জুন ২০১৫)।
সেসময় এর বিরুদ্ধে স্থানীয় ম্রো আদিবাসীরা পর্যটন স্থাপনা নির্মাণ না করার দাবি জানালেও তাদের সে দাবি উপেক্ষা করা হয়েছে। কিন্তু ২২ নভেম্বরের সংবাদ সম্মেলনে বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সিকদার গ্রুপের সাথে চুক্তিপত্র করার কথাটি সম্পূর্ণভাবে অস্বীকার করেছেন। বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয় যে, হোটেল বিল্ডিংয়ের সাথে পর্যটকদের এক পাহাড় থেকে অন্য পাহাড়ে যাতায়াতের সুবিধার্থে ১২টি পৃথক ভিলা, আধুনিক কেবল গাড়ি, রাইড এবং সুইমিং পুলসহ বিভিন্ন ধরনের বিনোদনমূলক সুবিধা, ছড়া-ঝিড়ি বাঁধ দিয়ে পানি ব্যবস্থা ইত্যাদি স্থাপনা থাকবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
 এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে ব্যাপক পরিবেশ ও প্রতিবেশগত বিপর্যয় এবং প্রাণ-প্রকৃতির ক্ষতি হবে। কেবল তাই নয়, ম্রো জনগোষ্ঠীসহ আদিবাসী জুম্ম জনগণের উপর নেতিবাচক রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক প্রভাব পড়বে। স্বভাবতই গোটা চিম্বুক ভ্যালীর ম্রো বসতির উপর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। পূর্বেকার কাপ্তাই বাধেঁর মতো হাজার হাজার জুম্ম উদ্বাস্তু হয়ে পড়বে বলেও উদ্বেগ জানায় সংগঠনটি।
সংগঠনটির দপ্তর সম্পাদক মিলন কুসুম তঞ্চঙ্গ্যার স্বাক্ষরিত উক্ত প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয় যে, ইতিমধ্যে নিরাপত্তাবাহিনীর পক্ষ থেকে সরাসরি চারটি ম্রো আদিবাসীদের পাড়া উচ্ছেদ করে নাইতং পাহাড়ের ২০ একরের বাইরে যে সীমানা নির্ধারণ করা হয়েছে সেখানে দোলা পাড়াবাসীর বাগান ও চাষের ভ‚মি, কাপ্রæ পাড়ার ভেতর দিয়ে রাস্তা নির্মাণের জন্য
নিরাপত্তাবাহিনী কর্তৃক লাল পতাকা পুঁতে দিয়ে আনুমানিক ৮০০ থেকে ১০০০ একরের মত জায়গা চিহ্নিত করা হয়েছে, যে বিষয়ে সংবাদ সম্মেলনে পাশ কাটিয়ে যাওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য নিরাপত্তা বাহিনীর স্থাপনার নামে ম্রোদের স্বভূমি থেকে উচ্ছেদ করা হয়েছে বিভিন্ন সময়ে।
১৯৯০-এর দশকে সুয়ালকে সেনাবাহিনীর প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপনের নামে সাড়ে ১১ হাজার একর এবং রুমায় সেনানিবাস সম্প্রসারণের নামে ৯ হাজার একর জায়গা জোরর্পূবক অধিগ্রহণ করা হয়েছে, যে জমিগুলো ছিল ম্রোদের, যেখান থেকে ইতিমধ্যেই শত শত ম্রো পরিবার উচ্ছেদ হয়ে পড়েছিল।
এছাড়াও পার্বত্য চুক্তির ২৩ বছর হতে চললেও পার্বত্য জেলা পরিষদ গণতান্ত্রিক না হয়ে ক্ষমতাসীন সরকারের লুটপাটের একটা আস্তানায় পরিণত হয়েছে দাবী করে সংগঠনটি আরো উল্লেখ করে যে, পার্বত্য জেলা পরিষদ গণতান্ত্রিক না হয়ে ক্ষমতাসীন সরকারের লুটপাটের একটা আস্তানায় পরিণত হয়েছে।
কোন সময় পার্বত্য জুম্ম জনগণের স্বার্থে পরিচালিত হয়নি। প্রাণ-প্রকৃতি ধবংস করে, ম্রো আদিবাসীদের জীবনকে বিলুপ্তির দিকে ঠেলে দিয়ে শিক্ষা, চিকিৎসা নিশ্চিত না করে পর্যটনের নামে উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনা করা কখনোই স্থানীয় ম্রো জনগোষ্ঠীর কল্যাণমূলক হতে পারে না ।
অন্যদিকে পার্বত্য জেলার আইন অনুযায়ী জেলার কার্যক্রম পরিচালনা করার এখতিয়ার থাকলেও পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি মোতাবেক পার্বত্য অঞ্চলে সকল উন্নয়ন কার্যক্রম ও পরিষদের কার্যাবলি সম্পাদনের ক্ষেত্রে আঞ্চলিক পরিষদের সাথে আলোচনার বিধান থাকলেও বান্দরবান জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান করেননি বলে দাবী সংগঠনটির। যা সম্পূর্ণ চুক্তি বিরোধী ও জুম্ম স্বার্থ পরিপন্থী কার্যক্রম এবং মোদ্দাকথায় চেয়ারম্যান ক্য শৈ হ্লার গতকালের সংবাদ সম্মেলনটি ছিল প্রতারণামূলক, বাস্তব বিবর্জিত ও চুক্তিবিরোধী বলেও দাবী করে পাহাড়ী ছাত্র পরিষদ।
বান্দরবান জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ক্য শৈ হ্লার সংবাদ সম্মেলনে বিবৃত কথাগুলো “মনগড়া ও বাস্তব বির্বজিত” দাবী করে পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ী ছাত্র।
Alert! This website content is protected!