বি.দ্রঃদৈনিক নতুন ভাবনাপত্রিকায় প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার সম্পূর্ন লেখকের/প্রতিনিধির।আমরা লেখক প্রতিনিধির চিন্তা ও মতামতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল।প্রকাশিত লেখার সাথে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল সবসময় নাও থাকতে পারে।তাই যে কোনো লেখার জন্য অত্র পত্রিকার কর্তৃপক্ষ দায়ী নয়।

তাজা খবর

রাজশাহীতে বেগম রোকেয়া দিবসে শ্রেষ্ঠ জয়িতা হলেন খুকি

 মোঃ জাহিদ হাসান পলাশ,রাজশাহী :
নির্যাতনের বিভীষিকা মুছে ফেলে নতুন উদ্যোমে জীবন শুরু করা নারী হিসেবে রাজশাহীতে মহানগর  ও জেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ জয়িতা নির্বাচিত হয়েছেন রাজশাহীর আলোচিত নারী পেপার বিক্রেতা জোহরা দিল আফরোজ খুকি। বুধবার (৯ ডিসেম্বর) মানব সম্পদ উন্নয়ন প্রশিক্ষন কেন্দ্রে  জেলা প্রশাসন ও মহিলা বিষয়ক অধিদফতরের আয়োজনে আন্তর্জাতিক নারী নির্যাতন প্রতিরোধ পক্ষ ও বেগম রোকেয়া দিবস উপলক্ষে ‘জয়িতা অন্বেষণে বাংলাদেশ’ অনুষ্ঠানে তাকে এই সম্মাননা প্রদান করা হয়।
নির্যাতনের বিভীষিকা মুছে ফেলে নতুন উদ্যোমে জীবন শুরু করা নারী হিসেবে তাকে এই সম্মননা প্রদান করা হয়।
রাজশাহী অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মুহাম্মদ শরিফুল হকের সভাপতিত্বে  জয়িতা সম্মাননা প্রধান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী জেলা প্রশাসক আব্দুুল জলিল।

প্রধান অতিথির বক্তৃতায় আব্দুল জলিল বলেন, মানুষ হিসেবে আমরা সুখ চাই, শান্তি চাই, বৈষম্য নির্যাতন হতে মুক্তি চাই। মানুষের কল্যাণ ও মানব মুক্তির জন্য ক্ষণে ক্ষণে মহিয়ষী নারীদের জন্ম হয়েছে। যাঁদের কারণে পৃথিবীটা অন্ধকার হতে আস্তে আস্তে আলোর দিকে এগিয়ে এসেছে। হযরত মুহাম্মদ (স.) মানবমুক্তির কথা, শান্তির কথা, নরীদের মুক্তির কথা বলেছেন। মানব মুক্তির জন্য ইসলামের প্রচার করেছেন। ইসলামে যে ভাবে নারীদের মর্যাদা দেওয়া হয়েছে যেটা অকল্পনীয়।
প্রধান অতিথি বলেন, ১৪০০ বছর আগে হাদিস ও কুরআনে নারীদের মর্যাদা দেওয়া হয়েছে, অধিকারকে প্রতিষ্ঠিত করা হয়েছে। এ থেকে বোঝা যায়, ধর্মের বাণী সবকিছু মানুষের মুক্তির জন্য। মানুষ তথা নারী ও পুরুষ উভয়ের মুক্তির জন্য। নবী (স.) ধর্ম প্রচার ও মুক্তির বাণী প্রচারের জন্য প্রথম যিনি সহযোগিতা করেছেন তিনি হলেন খাদিজাতুল কুবরা। যিনি হযরত মুহাম্মদ (স.) এর সহধর্মীনি ছিলেন। তিনিই প্রথম ইমান এনেছেন। আমাদের স্বাধীনতার যুদ্ধে বঙ্গবন্ধুকে বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন নেসা পরামর্শ ও সাহস যুগিয়েছেন। জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বলেছেন, ‘পৃথিবীতে যা কিছু চির কল্যাণকর, অর্ধেক তার করিয়াছে নারী, অর্ধেক তার নর’। নারীর ভূমিকা ও সহযোগিতা ছাড়া কখনই সভ্যতা ও মানুষের উন্নয়ন, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও পারিবারিক উন্নয়ন সম্ভব নয়। বেগম রোকেয়া সেই সময় উপলব্ধি করতে পেরেছিলেন নারীদের উন্নয়ন ও সামাজিক ক্ষেত্রে এগিয়ে নিতে হলে নারী শিক্ষার প্রয়োজন। তিনি সেই সময়ে এগিয়ে এসেছিলেন বলে নারীরা আজ বহুদূর এগিয়েছে।
‘জয়িতা অন্বেষণে বাংলাদেশ’ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে শাহীন আখতার রেণী বলেন, বেগম রোকেয়ার আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে এগিয়ে যেতে হবে নারীদের। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সমাজে পিছিয়ে পড়া অবহেলিত নারীদের পাশাপাশি বিভিন্ন সময়ে নিজ পরিবার, স্বামী ও সমাজ দ্বারা নির্যাতিত-নিপীড়িত নারীদের দেশের মূল অর্থনৈতিক স্রোতধারায় সম্পৃক্ত করতে নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন।
তিনি বলেন, বেগম রোকেয়া নারী মুক্তির জন্য যে স্বপ্ন দেখেছিলেন তার আলোকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১৯৯৬ সালে নারীনীতি বাস্তবায়ন করেন। এসময় তিনি বলেন, দেশকে এগিয়ে নিতে সামাজিক ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে নারীর অংশগ্রহণ অপরিহার্য।
শহীন আকতার বলেন, দেশে অবহেলিত পিছিয়ে পড়া নারীদের এগিয়ে নিতে, দেশের মূল স্রোতধারায় তাদের ফিরিয়ে আনতে আন্তর্জাতিক নারী নির্যাতন প্রতিরোধ পক্ষ ও বেগম রোকেয়া দিবস পালনের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখলে হবে না। তিনি তরুণ-তরুণী, সমাজের গণ্যমাণ্য ও রাজনৈতিক ব্যক্তিদের এসব নির্যাতিত, নিপীড়িত, পিছিয়ে পড়া নারীদের সহায়তার জন্য এগিয়ে আসার আহব্বান জানান।

এসময় আরো বক্তব্য দেন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যলয়ের সমাজকর্ম বিভাগের প্রফেসর ড. তানজিমা  জোহরা হাবিব, মহিলা বিষয়ক অধিদফতরের উপ পরিচালক শবনম শিরিন, জাতীয় মহিলা সংস্থার চেয়াম্যান মর্জিনা পারভিন।

উল্লেখ্য, অনুষ্ঠানে  জেলা পর্যায়ে অর্থনৈতিকভাবে সাফল্য অর্জনকারী নারী হিসেবে মোসা. নিলুফা ইয়াসমিন, শিক্ষা ও চাকুরী ক্ষেত্রে সাফল্য অর্জনকারী নারী হিসেবে ড. হোসনে আরা আরজু, সফল জননী নারী হিসেবে মোসা. নুরুন্নাহার, নির্যাতনের বিভীষিকা মুছে ফেলে নতুন উদ্যোমে জীবন শুরু করেছে যে নারী হিসেবে জোহরা দিল আফরোজ খুকি, সমাজ উন্নয়নে অসামান্য অবদান রেখেছে যে নারী হিসেবে লক্ষী মারডি।

মহানগর পর্যায়ে অর্থনৈতিকভাবে সাফল্য অর্জনকারী নারী হিসেবে মোসা. নিলুফা ইয়াসমিন, শিক্ষা ও চাকরি ক্ষেত্রে সাফল্য অর্জনকারী নারী হিসেবে, ড. হোসনে আরা আরজু, সফল জননী নারী হিসেবে কানন রায়, নির্যাতনের বিভীষিকা মুছে ফেলে নতুন উদ্যোমে জীবন শুরু করেছে যে নারী হিসেবে জোহরা দিল আফরোজ খুকি, সমাজ উন্নয়নে অসামান্য অবদান রেখেছে যে হিসেবে শাহীনা লাইজু।

জোহরা দিল আফরোজ খুকি প্রধানমন্ত্রী ও ‘জয়িতা অন্বেষণে বাংলাদেশ’ -এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, জয়িতা পুরস্কার পেয়ে ভাল লাগছে।  জেলা প্রশাসকের বক্তব্যে জেনেছি প্রধানমন্ত্রী আমার খোঁজ নিয়েছেন। এটা  আমার জীবনে সবচেয়ে বেশি আনন্দের বিষয়। এসময় তিনি আমার মতো নারীদের পাশে সরকার এভাবে দাঁড়ালে আমরা অবহেলিত পিছিয়ে পড়া নারী হিসেবে নয়, সমাজে সফল নারী হিসেবে এগিয়ে যাবো।

 

 

 

 

 

 

 

এই বিভাগের আরো খবর

Alert! This website content is protected!