বি.দ্রঃদৈনিক নতুন ভাবনাপত্রিকায় প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার সম্পূর্ন লেখকের/প্রতিনিধির।আমরা লেখক প্রতিনিধির চিন্তা ও মতামতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল।প্রকাশিত লেখার সাথে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল সবসময় নাও থাকতে পারে।তাই যে কোনো লেখার জন্য অত্র পত্রিকার কর্তৃপক্ষ দায়ী নয়।

তাজা খবর

রাতের আধারে মহিলা মাদ্রাসার শিক্ষিকা ও ছাত্রী উধাও

মোঃ আজাদুল ইসলাম, সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধিঃ
সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার বাগবাটি ইউনিয়নের চর নান্দিনা হযরত ফাতেমাতুজ্জোহরা রাঃ মহিলা হাফিজিয়া কওমী মাদ্রাসা থেকে রাতের আধারে একজন শিক্ষিকা ও একজন ছাত্রী উধাও হয়ে গেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। যা নিয়ে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।
রবিবার (৩ জানুয়ারি) দিবাগত রাতের কোনও এক সময় এই ঘটনা ঘটে। শুধু তাই নয়, রাতের আধারে আবাসিক এই মাদ্রাসায় লুকিয়ে দুজন পুরুষও ঢুকেছিল বলে এলাকাবাসী ও মাদ্রাসার সুপার জানান।
সরেজমিনে উপজেলা সদরের বাগবাটি ইউনিয়নের চর নান্দিনা গ্রামের চর নান্দিনা হযরত ফাতেমাতুজ্জোহরা রাঃ মহিলা হাফিজিয়া কওমী মাদ্রাসায় গিয়ে মাদ্রাসার সুপার মাওলানা রেজাউল করিম, সভাপতি আলাউদ্দিন সরকার সহ এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, অত্র মাদ্রাসার আবাসিক শিক্ষিকা পার্শ্ববর্তী রাঙ্গালিয়াগাতী গ্রামের শামসুল ফকিরের মেয়ে কুলসুম (২২) ও চর নান্দিনা গ্রামের মনি মিয়ার মেয়ে ফার্সি পোহালী বিভাগের ছাত্রী সুমাইয়া (১৬) গভীর রাতে মাদ্রাসা থেকে উধাও হয়ে গেছে। তার আগে রাত ১১টার দিকে দুজন পুরুষ মাদ্রাসায় প্রবেশ করে তাদের সঙ্গে দেখা বলেন। পরে মাদ্রাসার অন্যান্য মেয়েরা তাদের একসঙ্গে দেখে ফেলে লোকজন ডাকাডাকি করলে এলাকাবাসী আসলে ছেলে দুটি কৌশলে পালিয়ে যায়।
আবাসিক মাদ্রাসায় কিভাবে রাতের আধারে পুরুষরা ঢুকতে পারে ও মাদ্রাসার সুপার উপস্থিত থাকার পরেও কিভাবে মেয়ে দুটি উধাও হয়ে গেলো তা নিয়ে এলাকায় চলছে নানান রকম গুঞ্জন ও সমালোচনা। মাদ্রাসার সুপার ও সভাপতি এ দ্বায় এড়াতে পারেনা উল্লেখ করে রাতের ঘটনা পরদিন বিকালেও কেন প্রশাসনকে জানানো হয়নি সে প্রশ্ন তুলছেন অনেকে।
এবিষয়ে মাদ্রাসার সুপার মাওলানা রেজাউল করিম বলেন, ‘রাত ১১টার দিকে সভাপতি আমাকে ফোন করে জানান মাদ্রাসায় দুটি ছেলে ঢুকেছিল। পরবর্তীতে আমি তখনি মাদ্রাসায় আসি ও মাদ্রাসাতেই রাত্রিযাপন করি। ফজরের নামাজের আগে মেয়ে দুটি আমাকে বলে বাথরুমে যাবে। কিন্তু সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখি মেয়ে দুটি উধাও।’
কিন্তু মেয়ে দুটি নিজে থেকেই গিয়েছে নাকি কিছু হয়েছে এবং বিষয়টি কেন এখনো কেন প্রশাসনকে জানানো হয়নি এ দুটি প্রশ্নের কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি তিনি।
এবিষয়ে মাদ্রাসার সভাপতি মোঃ আলাউদ্দিন সরকারও সুপারের সঙ্গে সুর মিলিয়ে মেয়ে দুটি উধাওয়ের বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, ‘আমরা তাদের অভিভাবকদের বিষয়টি জানিয়েছি। কিন্তু প্রশাসনকে জানানো হয়নি।’
এবিষয়ে বাগবাটি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ জাহাঙ্গীর আলম বলেন, নিখোঁজ ছাত্রীর বাবা তাকে ফোনে বিষয়টি জানিয়েছে। তাকে আইনগত ব্যাবস্থা নিতে বলেন এবং বিষয়টি থানাতেও অবগত করেন।
এবিষয়ে সিরাজগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ বাহাউদ্দীন ফারুকী বলেন, বিষয়টি তিনি এখনো অবগত নই বা কোনও অভিযোগও আসেনি। জিডি দায়ের পূর্বক তদন্ত করে অবশ্যই প্রয়োজনীয় ব্যাবস্থা গ্রহণ করা হবে।
Alert! This website content is protected!