বি.দ্রঃদৈনিক নতুন ভাবনাপত্রিকায় প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার সম্পূর্ন লেখকের/প্রতিনিধির।আমরা লেখক প্রতিনিধির চিন্তা ও মতামতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল।প্রকাশিত লেখার সাথে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল সবসময় নাও থাকতে পারে।তাই যে কোনো লেখার জন্য অত্র পত্রিকার কর্তৃপক্ষ দায়ী নয়।

তাজা খবর

রায়গঞ্জে কৃষি জমির টপ সয়েল যাচ্ছে ইটভাটায়-হুমকির মুখে জমির উর্বরতা

মোঃ আজাদুল ইসলাম, সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধিঃ
সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলায় কৃষি জমির উপরের অংশ (উর্বর মাটি বা টপ সয়েল) কেটে নিয়ে যাচ্ছে ইটভাটা মালিকরা। উর্বর মাটি চলে যাওয়া জমিতে ফসল উৎপাদন কমছে। শুধু তাই নয় ভয়াবহ বিপর্যয়ের সম্মুখীন হচ্ছে পরিবেশ। পাশাপাশি মাটি পরিবহনে ট্রলি ও ট্রাকগুলো যেনতেনভাবে মাটি ভর্তি করে সড়ক ও বিভিন্ন ইউপির পাকা রাস্তাগুলোতে চলাচল করায় মাটি পড়ে রাস্তার ভিটুমিন নষ্ট হচ্ছে। এতে পাকা রাস্তার প্লাস্টার ওঠে গিয়ে গর্তের সৃষ্টি এবং রাস্তা নষ্ট হওয়ায় দুর্ভোগের শিকার হয় জনগণ। এখানেও একই অবস্থা হবে।
এ বিষয়ে স্থানীয়রা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,বাশাইল ইট ভাটায় এলাকার ফসলি জমির মাটি নেয়ার কারণে জমির ব্যাপক ক্ষতি হবে।‘গ্রামীণ পাকা সড়কে এ ধরণের ভারী যানবাহন চলতে দেয়া যাবেনা। ভারী যান চলাচলে নতুন পাকা সড়ক বছর যেতে না যেতেই নষ্ট হচ্ছে। দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন জনগণ। অপচয় হচ্ছে সরকারি অর্থের।
সরকারি আইন অনুযায়ী কৃষি জমির মাটি ভাটায় ব্যবহার নিষিদ্ধ। এই আইন লঙ্ঘনের জন্য সর্বোচ্চ দুই বছর কারাদন্ড বা দুই লাখ টাকা জরিমানা বা উভয় দন্ডের বিধান রয়েছে।
উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে জানা যায়, ভাটার দালালরা মূলত কৃষকদের বিভিন্নভাবে ফুসলিয়ে বা ভুল বুঝিয়ে জমির মাটি স্বল্প মূল্যে খরিদ করে তা ইটভাটায় বিক্রি করছে ভাটা মালিকদের কাছে। তাদের বুঝানো হচ্ছে উচুঁ জমিতে ধান আবাদ হবে না, জমি থেকে সেচের পানি নেমে যায় বলে ওপরের মাটিতে ভাইরাস-ময়লা আছে তাই ওপরের মাটি বেচে দিয়ে নতুন মাটিতে আবাদ করলে ভালো ফসল হবে। এতে লাভবান হচ্ছে ইটভাটার মালিকসহ একটি দালাল চক্র। তাই অবৈধভাবে ইটভাটার সংখ্যাও বেড়ে যাচ্ছে।
এব্যাপারে ভাটা মালিক শামছুল হক জানান,আমি রায়গঞ্জ ইটভাটা মালিক সমিতির সিনিয়র সহ-সভাপতি। ভাটা চালাতে হলে তো মাটি দরকার। তাই ভাই সকলকে ম্যানেজ করেই ভাটায় মাটি নিচ্ছি।
রায়গঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল মজিদ বলেন, ‘উর্বর মাটি তৈরি হতে অনেক বছর সময় লাগে। একটি উদ্ভিদের ১৬ প্রকার খাদ্যের মধ্যে মাটিতে ১৩ প্রকার খাদ্য উপাদান রয়েছে। ফসলি জমির উপরিভাগ ৪-৬ ইঞ্চি মাটি বেশি উর্বর। তবে এভাবে উর্বর মাটি ভাটায় চলে গেলে ভবিষ্যতে ২০-৩০ শতাংশ হারে ফসল উৎপাদন হ্রাস পাবে।’ প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রায়ই অভিযান চালিয়ে বিভিন্ন জরিমানা আদায় করার পরেও তা নিয়ন্ত্রণ হচ্ছে না। এ বিষয়টি সরেজমিনে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিবেন বলে জানান তিনি।
Alert! This website content is protected!