বি.দ্রঃদৈনিক নতুন ভাবনাপত্রিকায় প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার সম্পূর্ন লেখকের/প্রতিনিধির।আমরা লেখক প্রতিনিধির চিন্তা ও মতামতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল।প্রকাশিত লেখার সাথে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল সবসময় নাও থাকতে পারে।তাই যে কোনো লেখার জন্য অত্র পত্রিকার কর্তৃপক্ষ দায়ী নয়।

তাজা খবর

শিবগঞ্জের যুবকের বস্তুা বন্দি লাশ,ইউ পি চেয়ারম্যান সহ আসামি ১৩

উৎপল কুমার বগুড়া জেলা প্রতিনিধিঃ
বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার বিহার ইউপির শিমুল মিয়া (২৭) নামে এক যুবক বগুড়া নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আদালতে হাজিরা দিয়ে বাড়ী ফেরার পথে তাকে অপহরণের পর হত্যা করে লাশটি গোবিন্দগঞ্জে ফেলে যায় দুর্বৃত্তরা। সোমবার রাতে গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার ফুলপুকুরিয়া বাজার থেকে পুলিশ লাশটি উদ্ধার করে। নিহত শিমুল মিয়া বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার বিহার ইউপির মোন্নাপাড়া গ্রামের মোঃ আফজাল হোসেনের ছেলে। উক্ত ঘটনায় সোমবার রাতেই নিহতের ভাই মোঃ রায়হান মিয়া বাদী হয়ে বিহার ইউপির চেয়ারম্যান মোঃ মহিদুল ইসলামসহ ১৩ জনের নাম উল্লেখ করে গোবিন্দগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
মামলা সূত্রে জানা যায়, উপজেলার বিহার ইউপির শিমুল মিয়া (২৭) বগুড়া নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আদালতে হাজিরা দিয়ে বাড়ী ফেরার পথে সদরের টেংরা বন্দরে সিএনজি অটোরিকশা থেকে নামলে বিহার ইউপি চেয়ারম্যানের ব্যবহৃত কালো রঙের মাইক্রোবাসে তাঁকে টানা হেচড়া করে তুলে অপহরণ করে দুর্বৃত্তরা। পরে শিমুলকে হত্যা নিশ্চিত ভেবে গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার গুমানীগঞ্জ ইউনিয়নের আলীপুর এলাকায় রাস্তার পাশে বস্তাবন্দী লাশ ফেলে যায় তারা। এসময় পথচারীরা রাস্তার পাশে বস্তার ভিতর থেকে গোংগানি শব্দ শুনতে পায়, তাঁরা এবং এগিয়ে গিয়ে বস্তার মুখ খুলে দেখে মানুষ তার সাথে কথা বললে সে বাচাঁর আকুতি করে এবং তার নাম ঠিকানা ও ঘটনা খুলে বলে। তখন শিমুলকে উদ্ধার করে ফুলপুকুরিয়া বাজারে একটি পল্লী চিকিৎসকের কাছে নিলে সেখানেই তার মৃত্যু হয়। খবর পেয়ে পুলিশ সোমবার রাতে ফুলপুকুরিয়া বাজার থেকে লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। ময়নাতদন্তের জন্য মঙ্গলবার লাশটি গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়।
উক্ত হত্যা মামলায় প্রধান আসামী হলেন, বিহার ৭নং ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মহিদুল ইসলাম, পিতা হাফিজুর রহমান শুকটু বিহার উত্তারপাড়া, মিনহাজ ইসলাম (৩৫) পিতা মোখলেছার রহমান, মোন্তেজার রহমান নূরুন্নবী (৩৩) পিতা মৃত লোকমান হোসেন, জিল্লুর রহমান (৪০), পিতা মৃত ছবেদ আলী, শাহ জালাল (৩০) পিতা আকবর , শামীম(৪২), পিতা মৃত তছলিম উদ্দিন, হেলা আজিজুল (৩২) পিতা সোহরাব হোসেন, ডন (৩০) পিতা মৃত মোফাজ্জল হোসেন, সোহেল (৩০) পিতা তোফা মিয়া, মেহেদুল ইসলাম মিষ্টার (৩৬) মৃত মোজাহার আলী, আপেল (২৮) পিতা শাহজাহান, সোহেল (২৮) পিতা খয়বর আলী। তারা সবাই বিহার ইউনিয়নের বাসিন্দা।
নিহতের বড় ভাই ইউপি সদস্য রায়হান ইসলাম এ প্রতিবেদক-কে বলেন, বিহার ইউপি নির্বাচনের পর থেকে চেয়ারম্যান মোঃ মহিদুল আমার ভাইকে বিভিন্ন অনৈতিক কাজে ব্যবহার করত। আমার ভাই সেই অনৈতিক কাজের প্রতিবাদ করে চেয়ারম্যানের কাজ থেকে সড়ে যায়। একারণে চেয়ারম্যানের সাথে কার সম্পর্কের অবনতি ঘটে। তারপরেও তাকে দলে ফেরানোর চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়ে তার বিরুদ্ধে ৯/১০ মামলা দিয়ে হয়রানী করে। সর্বশেষ তাকে হত্যা করে লাশ গুমের চেষ্টা। আমি প্রশাসনের কাছে তদন্তপূর্বক আমার ভাই এর হত্যাকারীদের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করছি।
গোবিন্দগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ মেহেদী হাসান বিষয়টি নিশ্চিত করে এ বলেন, শিমুলকে অপহরণের পর হত্যা করে লাশ ফেলে যায়। তাঁর একটি পা কোপানো ও ভাঙ্গা ছিলো এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। এ ঘটনায় নিহতের বড় ভাই বাদী হয়ে থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেছে। হত্যার রহস্য উদঘাটনসহ গ্রেফতার অভিযান অব্যহত আছে।
Alert! This website content is protected!