বি.দ্রঃদৈনিক নতুন ভাবনাপত্রিকায় প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার সম্পূর্ন লেখকের/প্রতিনিধির।আমরা লেখক প্রতিনিধির চিন্তা ও মতামতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল।প্রকাশিত লেখার সাথে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল সবসময় নাও থাকতে পারে।তাই যে কোনো লেখার জন্য অত্র পত্রিকার কর্তৃপক্ষ দায়ী নয়।

তাজা খবর

শীতে জমজমাট সিরাজগঞ্জের পিঠার দোকানগুলো

মোঃ আজাদুল ইসলাম, সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধিঃ 
শীতের পিঠাপুলি বাঙালির আদি খাদ্য সংস্কৃতির একটি অংশ। বাংলার চিরায়ত লোকজ খাদ্য পিঠা, পায়েসের সঙ্গে মিশে আছে আহবমান বাংলার সংস্কৃতি। আধুনিকতার ছোঁয়ায় পারিবারিক ও সমাজ-জীবন থেকে পিঠা তৈরির আয়োজন কমে যাচ্ছে। তবে গ্রাম-বাংলার ঐতিহ্য ধরে রেখেছে একশ্রেণীর মৌসুমী নারী-পুরুষ ব্যবসায়ী।
কুয়াশাছন্ন হিমেল ঠান্ডা বাতাসে জানান দিচ্ছে শীতের আমেজ। আর শীতে কম-বেশি সব বাজারেই পাওয়া যাচ্ছে বাহারি পিঠা। তাই এবারের শীতে ভিন্ন ধাঁচে আপনিও বাজার থেকে কিনতে পারেন মজাদার জামাই ভোজন সব পিঠা। শীতের আমেজ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কদর বেড়েছে নানা রকমের শীতের পিঠা। পিঠার দোকানগুলোতে ভিড় জমতে শুরু করেছে পিঠা ভক্তরা।
সরজমিনে ঘুরে দেখা যায়, সিরাজগঞ্জের এস.এস রোড, খলিফা পট্টি, মজিব সড়ক, কালিবাড়ী, চান্দালী মোড়, বাজার স্টেশনে গড়ে উঠেছে ভ্রাম্যমাণ পিঠার দোকান। এসব দোকানে মূলত ভাপা, চিতই, তেলেরপিঠসহ নানান বাহারী পিঠা বানানো হচ্ছে। প্রতিটি পিঠার দাম ৫-১০ টাকা।
কুয়াশাছন্ন সকাল-সন্ধ্যার হিমেল বাতাসে ভাপা পিঠার সুগন্ধি ধোঁয়ার মন আনচান করে ওঠে। সরিষা বা ধনে-পাতা, শুটকি ভর্তা মাখিয়ে চিতই পিঠা মুখে দিলে ঝালে কান গরম হয়ে শীত পালায়। এই পিঠার স্বাদ পেতে রিক্স-চালক, দিনমজুর, শিশু-কিশোর, চাকরিজীবী, শিক্ষার্থী সব শ্রেণি-পেশার মানুষই পিঠার দোকানে ভিড় করছে। অনেকে কর্মস্থল থেকে ফেরার পথে সন্ধ্যায় পিঠা নিয়ে যাচ্ছেন বাড়িতে।
রাস্তার পাশে এবং মোড়ে মোড়ে দরিদ্র লোকজন এসব ভ্রাম্যমাণ পিঠার দোকান দিয়েছেন। পুরুষদের পাশাপাশি অনেক নারীও দোকানে পিঠা বিক্রি করছেন। সংসারে পাশাপাশি তারা বাড়তি আয় করছেন। তবে পিঠা বিক্রেতা বলছেন চালসহ দ্রব্যের মুল্য বৃদ্ধি হলেও পিঠার দাম বাড়েনি।
শহরের এস এস রোড়ের পিঠা ক্রেতা আব্দুস ছালাম বলেন, শীতের ঠান্ডা বাতাসে গরম গরম পিঠা খেতে খুব মজা লাগছে। আমি দুইটা খেয়েছি এবং বাড়ীর জন্য ১০টা নিয়ে যাচ্ছি।
পিঠা খেতে আসা স্কুল ছাত্র সজিব বলেন, বিকাল হলে চপ, শিঙ্গাড়া, পুড়িসহ টুকটাক কিছু খেতাম। কিন্তু ভাপা পিঠা পাওয়ার পর থেকে আর এগুলো না খেয়ে এখন থেকে পিঠা কিনে খাই।
চান্দ আলী মোড়ের রিক্সা চালক রুস্তম আলী বলেন, শীতের মধ্যে রিক্সা চালানো বড়ই কষ্টকর তাই একটি গরম গরম চিতই পিঠা খেয়ে শরীরটা গরম করতে চেষ্টা করছি।
কুড়িগ্রাম জেলা থেকে আসা পিঠা বিক্রতা আলতাব হোসেন বলেন, শীতের মৌসুমে আমরা বেশ কয়েকজন পিঠা বিক্রি করতে সিরাজগঞ্জ জেলায় আসি। নানান ধরনের বাহারী পিঠা আমরা তৈরী করি। সকাল-সন্ধায় ভ্রাম্যমান দোকান বসিয়ে প্রতিদিন প্রায় ১৫০০-১৭০০ টাকার পিঠা বিক্রি করেন। এ থেকে খরচ বাদে ৫০০-৬০০ টাকা লাভ হয়।
একই এলাকার পিঠা বিক্রেতা সুজন বলেন, আমি গরমের সময় দিনমজুরির কাজ করি। শীতের মৌসুমে পিঠা বিক্রি করি। এতে বাড়তি আয় করে ভাল ভাবে ছেলে-মেয়ে পরিবার পরিজন নিয়ে ভালই আছি।
পিঠা বিক্রেতা শেফালী বেওয়া বলেন, আমার স্বামী একজন রিক্সা চালক। শীতে কাজ করতে তার খুব কষ্ট হয়। তাই শীত এলেই সংসারের পাশাপাশি পিঠা বিক্রি করি। দৈনিক চার/পাঁচ কেজির চাল গুড়া করে বিক্রি করে থাকি। এতে বাড়তি কিছু আয় হচ্ছে।
Alert! This website content is protected!