বি.দ্রঃদৈনিক নতুন ভাবনাপত্রিকায় প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার সম্পূর্ন লেখকের/প্রতিনিধির।আমরা লেখক প্রতিনিধির চিন্তা ও মতামতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল।প্রকাশিত লেখার সাথে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল সবসময় নাও থাকতে পারে।তাই যে কোনো লেখার জন্য অত্র পত্রিকার কর্তৃপক্ষ দায়ী নয়।

তাজা খবর

সরকার কর্তৃক যে কোন দায়িত্ব পালন করতে আমরা বাধ্য

গিয়াস উদ্দিন রানা :- বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ বলেছেন, যে কোন দুর্যোগে সেনাবাহিনী কাজ করতে প্রস্তুত রয়েছে। করোনা চলাকালীন সময়ে সেনাবাহিনী উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করেছে, কারণ এটি হচ্ছে আমাদের সাংবিধানিক দায়িত্ব। তাতে আমাদের দায়বদ্ধতা ও সীমাবদ্ধতা আছে। দায়বদ্ধতা হচ্ছে দেশের যে কোন প্রয়োজনে সরকার কর্তৃক যে কোন দায়িত্ব পালন করতে আমরা বাধ্য। দেশে যখন করোনা প্রাদুর্ভাব দেখাদেয় ঠিক তখন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এ অদৃশ্য শত্রুর বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করার পাশাপাশি সেনাবাহিনীর সহায়তা চাওয়া হয়। প্রধানমন্ত্রীর ডাকে সেনাবাহিনী করোনা প্রতিরোধে শতস্ফুর্তভাবে অংশগ্রহন করে।

রোববার (১৭ জানুয়ারি’২১ খ্রিঃ) দুপুরে সেনা প্রধান তাঁর নিজ গ্রাম চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার দক্ষিণ টরকী গ্রামে পিতার নামে নব নির্মিত ‘আব্দুল ওয়াদুদ সরকার ১০শয্যা মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র’ উদ্বোধনকালে এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, সেনাবাহিনী জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দেশের ৬৪ জেলার মধ্যে ৬২ জেলায় কাজ করে। এর মধ্যে প্রত্যেক জেলায় ১১শ’ থেকে ১২শ’ সেনা সদস্য গাড়ী নিয়ে প্রত্যন্ত অঞ্চলে গিয়ে খাদ্য বিতরণসহ অন্যান্য সরকারি কাজ বাস্তবায়নে সহায়তা করেছে। এছাড়াও অস্থায়ী হাসপাতাল তৈরী করে করোনার কারণে চিকিৎসা বঞ্চিত গর্ভবতী মা ও শিশুকে চিকিৎসা সেবা দিয়েছেন এবং মানুষের মাঝে স্বাস্থ্য সচেতনতার সৃষ্টি করেন।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে রোহিঙ্গা সমস্যা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, মায়ানমার সেনাদের সাথে আমাদের সব সময় যোগাযোগ আছে, আলাপ হয়। কোন সমস্যা হলে নিজেরাই তাদের সাথে কথা বলে সমাধান করি। এই মুহুর্তে কোন কিছু হওয়ার সম্ভানা নেই। রোহিঙ্গা সমস্যা একটি রাজনৈতিক বিষয়। এ ব্যাপারে আমাদের সরকার অত্যন্ত দক্ষতার সাথে কাজ করে আসছে। আগামী দিনেও করবে।

সেনা প্রধান বলেন, আমি সেনা প্রধান হওয়ার পরেও সীমাবদ্ধতার কারণে নিজ এলাকায় আসতে পারেনি। হাসপাতাল উদ্বোধনকে কেন্দ্র করে আপনাদের মাঝে আসতে পেরেছি। রাজনৈতিক ব্যাক্তিদের দায়িত্ব হলো এলাকার উন্নয়ন করা। আমরা সরকারি কর্মচারী। তারপরেও কেউ যদি আমাদের কাছে আসে তাদেরকে চাকুরী কিংবা কারো সমস্যা হলে সমাধান করার চেষ্টা করি।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে চাঁদপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাড. নুরুল আমিন রুহুল, স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের অতিরিক্ত সচিব (উন্নয়ন) মৃণাল কান্তি দে, জেলা প্রশাসক (ডিসি) অঞ্জনা খান মজলিস, পুলিশ সুপার (এসপি) মো. মাহবুবুর রহমান, সিভিল সার্জন ডা. মো. সাখাওয়াত উল্লাহ, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা আবু নঈম পাটওয়ারী দুলাল, মতলব উত্তর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা এম.এ. কুদ্দুছ, কেন্দ্রীয় যুবলীগের সদস্য শিল্পপতি এম ইসফাক আহসান, উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা স্নেহাশীষ দাশ, ওসি মো. নাসির উদ্দিন মৃধা, উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. নুরশরাত জাহান মিথেন, উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা বোরহান উদ্দিন’সহ  ও সেনাবাহিনীর উর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।

উদ্বোধনের আগে হাসপাতাল সম্পর্কে স্বাস্থ্য শিক্ষা পরিকল্পনা অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী বিগ্রেডিয়ার জেনারেল ওসমান সরোয়ার উপস্থিত সুধীদের উদ্দেশ্যে ব্রিফিং করেন। পরে সেনা প্রধান হাসপাতাল প্রাঙ্গনে বৃক্ষরোপন করেন।

সেনাবাহিনীর নিজস্ব হেলিকপ্টারযোগে সেনা প্রধান অনুষ্ঠান স্থলে আসলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষসহ অন্যান্য সুধীমহল তাকে ফুল দিয়ে অভিনন্দন জানান। অনুষ্ঠান শেষে তিনি পুন:রায় হেলিকপ্টারযোগে কুমিল্লার উদ্দেশ্যে চাঁদপুর ত্যাগ করেন।

সরকারের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ৪ কোটি ৬৯ লাখ টাকা ব্যয়ে এই হাসপাতাল ভবনটি নির্মাণ করেন।

Alert! This website content is protected!