বি.দ্রঃদৈনিক নতুন ভাবনাপত্রিকায় প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার সম্পূর্ন লেখকের/প্রতিনিধির।আমরা লেখক প্রতিনিধির চিন্তা ও মতামতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল।প্রকাশিত লেখার সাথে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল সবসময় নাও থাকতে পারে।তাই যে কোনো লেখার জন্য অত্র পত্রিকার কর্তৃপক্ষ দায়ী নয়।

তাজা খবর

সিরাজগঞ্জ পৌরসভার শুন্যকৃত ৬নং ওয়ার্ডের পুনঃনির্বাচনের তারিখ ঘোষণা

মোঃ আজাদুল ইসলাম,সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধিঃ
গত ২৫শে জানুয়ারী (সোমবার) বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের নির্বাচন পরিচালনা-২ অধিশাখার উপসচিব মোঃ আতিয়ার রহমান স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়। প্রজ্ঞাপনে আরো জানানো হয়, রিটার্নিং অফিসারের নিকট মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ তারিখ ০২রা ফেব্রুয়ারী, রিটার্নিং অফিসার কর্তৃক মনোনয়ন বাছাইয়ের তারিখ ৪ঠা ফেব্রুয়ারী, প্রার্থীতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ১১ই ফেব্রুয়ারী এবং ভোট গ্রহণ ২৮শে ফেব্রুয়ারী ২০২১ইং। ব্যালট পেপারের মাধ্যমে সকাল ৮ঘটিকা থেকে বিকাল ৪ঘটিকা পর্যন্ত ভোট গ্রহণ চলবে।
উল্লেখ্য, গত ১৬ই জানুয়ারী সিরাজগঞ্জ পৌরসভার মেয়র এবং কাউন্সিলর পদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত নির্বাচনে পৌরসভার ৬নং ওয়ার্ডে ডালিম মার্কা প্রতীকে অংশগ্রহনকারী তরিকুল ইসলাম খান ৮৫ ভোটের ব্যবধানে বেসরকারীভাবে নির্বাচিত হন। নির্বাচিত হওয়ার ফলাফল ঘোষনার কিছুক্ষণ পর লুকিয়ে থাকা দূর্বত্তরা নব-নির্বাচিত কাউন্সিলর তরিকুল ইসলাম খানকে এলোপাতারি ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যায়। দ্রুত চিকিৎসার জন্য সিরাজগঞ্জ সদরের একটি বেসরকারী হাসপাতালে নেয়া হলে কর্তব্যরত ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষনা করেন। এরপরই নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে এই ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পদটি শূন্য ঘোষনা করা হয়।
এ ঘটনায় নিহত কাউন্সিলর তরিকুল ইসলামের ছেলে একরামুল হক হৃদয় বাদী হয়ে পরাজিত প্রতিদ্বন্ধী প্রার্থী উট পাখি প্রতীকে অংশগ্রহনকারী শাহাদৎ হোসেন বুদ্দিনকে ১নং আসামীকরে ৩০জনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাতনামা আরো ৪০-৫০ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।
উক্ত মামলায় পুলিশের দক্ষতায় এজাহার বর্হিভূত হত্যাকারী জাহিদুল ইসলাম (২০) কে ২১শে জানুয়ারী (বৃহস্পতিবার) রাতে ঢাকা মহানগর পুলিশের সহযোগিতায় ঢাকার যাত্রাবাড়ী থানার ধলপুর এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃত জাহিদুল ইসলাম শহরের সাহেদনগর ব্যাপারীপাড়া এলাকার টিক্কা ব্যাপারী ছেলে। হত্যাকান্ডের ব্যবহৃত ছুরিটি শুক্রবার সকালে সাহেদনগর ব্যাপারীপাড়া এলাকার মোকছেদের বাড়ীর পাশে পরিত্যাক্ত ডোবায় পশ্চিম পাড়ে মাটিতে পোতা অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার আরও জানান, গ্রেফতারের পর জিজ্ঞাসাবাদে জাহিদুল ইসলাম জানায়, সে উট পাখি প্রতীকের প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী শাহাদত হোসেন বুদ্ধিনের সমর্থক। নির্বাচনের তিনদিন আগে নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নেয়ার জন্য জাহিদুল ইসলাম ঢাকা থেকে সাহেদনগর ব্যাপারীপাড়াস্থ নিজবাড়িতে আসে। এরপর দুইদিন নির্বাচনী প্রচারে সে অংশ নেয়।
নির্বাচনের আগের দিন রাতে এক আসামীর বাড়িতে তাঁর উপস্থিতিতে এজাহার নামীয় ও অন্যান্য আসামীরা নির্বাচনের প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থী তরিকুল ইসলাম খানের উপর হামলার পরিকল্পনা করে। সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী এজাহার নামীয় একজন আসামী তাকে হত্যায় ব্যবহ্নত ছুরিটি দেয়। ফলাফল ঘোষণার সময় অন্যান্য আসামীদের সাথে জাহিদুলও ছুরি নিয়ে শহীদগঞ্জ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে প্রার্থী বুদ্দিন ও তার সমর্থকদের সাথে উপস্থিত হয়। সন্ধ্যা ৭টার কিছু আগে ফলাফল ঘোষণায় ডালিম প্রতীক ৮৫ ভোটে তরিকুল ইসলামকে বিজয়ী ঘোষণা করে। এরপরই পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী অন্যান্য আসামীদের সহযোগিতায় জাহিদুল তরিকুলের পেটে ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যায়।
এখন পর্যন্ত ২নং আসামী এনামুল হাসান লিখনসহ মোট ৬জনকে আটক করতে সক্ষম হয়েছে সিরাজগঞ্জ জেলা পুলিশ। বাকী আসামীদের গ্রেফতার করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালানো হচ্ছে বলে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
Alert! This website content is protected!