বি.দ্রঃদৈনিক নতুন ভাবনাপত্রিকায় প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার সম্পূর্ন লেখকের/প্রতিনিধির।আমরা লেখক প্রতিনিধির চিন্তা ও মতামতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল।প্রকাশিত লেখার সাথে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল সবসময় নাও থাকতে পারে।তাই যে কোনো লেখার জন্য অত্র পত্রিকার কর্তৃপক্ষ দায়ী নয়।

তাজা খবর

সিরাজগন্জের শাহজাদপুরে করতোয়া নদীতে চলছে দখল ও ভরাট!

মোঃ আজাদুল ইসলাম,সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধিঃ
শাহজাদপুর পৌর এলাকার রূপপুর নতুন পাড়া ও উরিরচরে করতোয়া নদীর বুকে বালির বাঁধ দিয়ে করতোয়া নদীর বৃহৎ একটি অংশ ভরাট ও দখলের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় প্রভাবশালী ও তীরবর্তী কতিপয় বসতিদের বিরুদ্ধে। বৃহৎ ওই অংশের কোথাও নেই সীমানা চিহ্ন বা পিলার। পাশাপাশি সংশ্লিষ্টদের এ বিষয়ে কোনো গরজ পরিলক্ষিত না হওয়ার ইচ্ছেমতো চলছে ভরাট ও দখলের কাজ। ঘটনার এখানেই শেষ নয়! ঈদগাহ, কবরস্থান, স্কুল আঙ্গিনা ও বসতবাড়িতে বালি ভরাটের নামে কৌশলে করতোয়া নদী তীর দখল করা হচ্ছে বলেও গুরুতর অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্টদের জরুরী ভিত্তিতে খতিয়ে দেখা উচিৎ বলে বিজ্ঞমহল মনে করছেন।
শাহজাদপুর পৌর এলাকার রূপপুর নতুন পাড়া ও উরিরচরে হারুনর রশীদ (৬৫), গোলজার হোসেন (৭৫), সোহেল রানা (৩০) সহ বেশ কয়েকজন এলাকাবাসী জানায়, ‘গত কয়েকদিন ধরে ওই এলাকার প্রভাবশালী হাফিজুল ইসলাম, ওমর ফারুক, আরিফুল ইসলাম, খবির মেম্বর, পাবনার রুবেল, রতনকান্দির রমজান ও বাঁশির ছেলের নেতৃত্বে উরিরচর এলাকার সাঈদের বাড়ি থেকে থানারঘাট করতোয়া সেতু সংলগ্ন রাসেলের বাড়ী পর্যন্ত করতায়া নদীর বুকে বালির বাঁধ দিয়ে দখল ভরাটের কাজ শুরু করেছে। প্রভাবশালীদের পক্ষ থেকে করতোয়া নদী তীরের এ অংশ নিজস্ব মালিকানাভুক্ত সম্পত্তি দাবী করা হলেও করতোয়া নদীর পশ্চিমের সীমানা কোথায়? বা কতদূর পর্যন্ত? এমন প্রশ্নের জবাব না প্রভাবশালীরা, না নতুন বসতি; এলাকার একজন মানুষও বলতে পারেনি।
সরেজমিন পরিদর্শনকালে একই এলাকার মৃত নূর আলমের ছেলে জামাল উদ্দিন বলেন,’আমরা নতুন বসতি। চৌহালী থেকে এসে বাড়ি করেছি। সবাই বলে এ জায়গা তো নদীর।’ একই এলাকার জয়নাল মুন্সীর ছেলে মোতালেব বলেন,’নদীর সীমানা জানি না। ভরাটের স্থানগুলো নদীর না ব্যক্তির ; তাও জানি না।’
দখল ও ভরাটের সাথে সংশ্লিষ্ট জনৈক ব্যক্তি নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, ‌‌ঈদগাহ, কবরস্থান, স্কুল আঙ্গিনা ও বসতবাড়িতে বালি ভরাটের অন্তরালে কৌশলে করতোয়া নদী তীর দখল করছি। এর কিছু জায়গা আমাদের । বাকিটা নদীর।
এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে হাফিজুর রহমানের ভাই হাফেজ মাওঃ শামছুল হক মুঠোফোনে বলেন, ‘সামনে আমরা যারা আছি, তারাই আমরা বাড়ির জায়গা ভরাট করছি। পৌরসভার মেয়র, উপজেলা চেয়ারম্যান, ইউএনও ও ডিসির কাছ থেকে অনুমতি নিয়ে তা পানি উন্নয়ন বোর্ডে জমা দিয়েই এ কাজ করছি।’
শাহজাদপুর পৌরসভার ২নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মামুম মিয়া বলেন,’শুনেছি জায়গাটি ব্যক্তিমালিকানার। তবে আমরা ভরাটের কোন অনুমতি দেইনি।
এ বিষয় শাহজাদপুর উপজলা নির্বাহী অফিসার শাহ্ মাঃ শামসুজ্জাহা বলেন, ‘নদীর জায়গা দখল করে ভরাট করার কোন অনুমতি দেইনি। নদীর বা সরকারি জায়গা দখল করে ভরাট করল অবশ্যই তদন্তসাপেক্ষে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।’
অন্যদিকে, এ বিষয় সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ শফিকুল ইসলামর সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে সরেজমিন না দেখে এ বিষয় মন্তব্য করতে রাজি হননি তিনি।
আইন বিশেষজ্ঞ ও বিজ্ঞমহলের মতে,’সিএস নকশায় ১৯৪০ সালে যেটা নদী হিসেবে উল্লেখ রয়েছে, পরবর্তীতে সেটার শ্রেণি পরিবর্তন করা আইনগতভাবে সম্ভব নয়। নদী শিকস্তি ও নদী পয়স্তি আইনানুসারে মালিকানাভুক্ত জমি নদীগর্ভে বিলীন হলে এবং ৩০ বছর বলবৎ থাকলে সে জমি রাষ্ট্রের। উত্তরাঞ্চলের বুক চিরে বহমান করতোয়া’র মতো জনগুরুত্বপূর্ণ নদীর এ অংশের সীমানা নির্ধারণ অতীব জরুরি হয়ে দাঁড়িয়েছে।’
Alert! This website content is protected!