বি.দ্রঃদৈনিক নতুন ভাবনাপত্রিকায় প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার সম্পূর্ন লেখকের/প্রতিনিধির।আমরা লেখক প্রতিনিধির চিন্তা ও মতামতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল।প্রকাশিত লেখার সাথে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল সবসময় নাও থাকতে পারে।তাই যে কোনো লেখার জন্য অত্র পত্রিকার কর্তৃপক্ষ দায়ী নয়।

তাজা খবর

সিরাজগন্জে পিবিআই এর প্রচেষ্টায় বাড়ী ফিরলো হারানো শিশু

মোঃ আজাদুল ইসলাম,সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধিঃ
সিরাজগঞ্জে কর্মরত পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পি.বি.আই) এর উপ-পরিদর্শক (এস.আই) বিদ্যুৎ চৌধুরীর মানবিকতা ও প্রচেষ্টায় নিরাপদে সিরাজগঞ্জ থেকে চুয়াডাঙ্গায় দাদির কাছে ফিরলো ট্রেন থেকে হারিয়ে যাওয়া মা-বাবা হাড়া হামিদুল ইসলাম (১০) নামের একটি শিশু। টানা ২দিন প্রচেষ্টার পর ব্যাচমেট ও বিশ্ববিদ্যালয়ের বন্ধুদের মাধ্যমে হারানো হামিদুলের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাকে বাড়ীতে দাদির কাছে ফিরিয়ে দেন তিনি।
শিশুটিকে ফিরিয়ে দেয়া সেই মহান মানুষটির কর্মকর্তার নাম বিদ্যুৎ চৌধুরী। তিনি উপ-পরিদর্শক (নিরস্ত্র) ২০১০ ব্যাচে চাকরিতে নিয়োগপ্রাপ্ত এবং বর্তমানে সিরাজগঞ্জের পিবিআই তে কর্মরত আছেন।
পুলিশ কর্মকর্তা বিদ্যুৎ চৌধুরীর সঙ্গে কথা হলে তিনি জানান, ৩ দিন আগে আমার অফিস এলাকার শাহিন নামে এক অটোরিকশা চালক আমাকে জানায় হামিদুল নামে ১০ বছরের একটি ছেলেকে সিরাজগঞ্জের বঙ্গবন্ধু সেতু পশ্চিম রেলস্টেশন এলাকা থেকে পাওয়া গেছে। জানা মাত্রই আমি হামিদুলের সঙ্গে কথা বলে জানতে পারি সে চুয়াডাঙ্গা থেকে দাদির সাথে ট্রেন যোগে সিরাজগঞ্জে আসছিল। কিন্তু পোড়াদহ স্টেশনে এসে সে তার দাদিকে হাড়িয়ে ফেলে। সে শুধু অস্পষ্ট এলাকার নাম আর দাদির নাম ছাড়া কিছুই বলতে পারে না। তখন আমি অল্প তথ্য নিয়েই সেখানে কর্মরত আমার ব্যাচমেট ও বিশ্ববিদ্যালয়ের বন্ধুর মাধ্যমে ডিটেইলস খোজ নিয়ে তার পরিবারকে শনাক্ত করতে সক্ষম হই। তখন জানতে পারি হামিদুল (১০) চুয়াডাঙ্গা জেলা শহরের বেলগাছি এলাকার মৃত রমির ছেলে। আরও জানতে পারি বাবা মারা যাওয়ার পরে তার মা অন্যত্র বিয়ে করে চলে গেছেন। সে তার দাদি খাতুন বেগমের কাছেই থাকে। পরবর্তীতে তাকে ব্যাচমেটের মাধ্যমে তার দাদির সাথে কথা বলিয়ে দিলে তার দাদি হামিদুলের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তখন আমি নিজ খরচে এসপি স্যারের অনুমতিক্রমে হামিদুলকে স্টেশনে পাওয়া শাহিন ও তার আরেক খালাতো ভাইকে দিয়ে তার বাড়িতে পৌছে দেই। রাস্তায় যেন কোনো সমস্যা না হয় তার জন্য আমি তাদের নিকট আমার স্বাক্ষরিত একটি চিঠিও পাঠাই। পরবর্তীতে সে বাড়িতে ভালভাবে পৌছালে আমাকে নিশ্চিত করা হয়।
তিনি তার অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে আরও বলেন, আমি এ বিষয়ে আমাদের পুলিশ সুপার স্যারের পরামর্শ নিয়েছি এবং ভালো কাজ করলে সবসময়ই মনে অন্যরকম একটা তৃপ্ততা কাজ করে। আগামীতেও সকল ভালো কাজে সবার সহযোগিতাও চান এই কর্মকর্তা।
এবিষয়ে সিরাজগঞ্জের পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পি.বি.আই) এর পুলিশ সুপার মোঃ রেজাউল করিম বলেন, আমরা সার্বিক কাজের পাশাপাশি এর আগেও এরকম অনেক মানবিক কাজ করেছি ও করে যাচ্ছি এবং এই ধরনের সহযোগিতা, কাজ ও প্রচেষ্টা আগামীতেও অব্যাহত থাকবে। বিদ্যুৎ চৌধুরীর এই প্রচেষ্টাকে আমি সাধুবাদ জানাই।
এর আগে বিক্রিত দুধের শিশুকে দ্রুত সময়ের মধ্যে উদ্ধার করে মায়ের হাতে তুলে দিয়ে সর্ব মহলের প্রশংসা কুড়িয়েছিলেন সিরাজগঞ্জ পিবিআই।
Alert! This website content is protected!