বি.দ্রঃদৈনিক নতুন ভাবনাপত্রিকায় প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার সম্পূর্ন লেখকের/প্রতিনিধির।আমরা লেখক প্রতিনিধির চিন্তা ও মতামতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল।প্রকাশিত লেখার সাথে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল সবসময় নাও থাকতে পারে।তাই যে কোনো লেখার জন্য অত্র পত্রিকার কর্তৃপক্ষ দায়ী নয়।

তাজা খবর

স্বাধীনতার অগ্রযাত্রায় গনঅভ্যুত্থান

নতুন ভাবনা ডেস্কঃ-

আজ ২৪ জানুয়ারি ২০২১ ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থান দিবস।পাকিস্তানি
সামরিক শাসন উৎখাতের লক্ষ্যে ১৯৬৯ সালের ২৪ জানুয়ারি সংগ্রামী
জনতা, শাসকগোষ্ঠীর দমন-পীড়ন ও সান্ধ্য আইন উপেক্ষা করে মিছিল বের
করে।যা ছিল স্বাধীনতার অগ্রযাত্রার পথিক।
১৯৬৯-এর ৪ জানুয়ারি সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের ১১ দফা কর্মসূচি
গণঅভ্যুত্থানের পথ সৃষ্টি করেছিল।
৪ জানুয়ারি ১৯৬৯ইং তারিখে ছাত্রদের ১১ দফা এবং বঙ্গবন্ধুর ৬ দফা
দাবীর সাথে একাত্মতা পোষণ করে ছাত্র সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, যাতে প্রধান
ভূমিকা রাখেন শহীদ আসাদ।
পূর্ব পরিকল্পনা অনুসারে ২০ জানুয়ারি ১৯৬৯ ইং কারফিউ ভেঙে ছাত্ররা
মিছিল বের করে।পুলিশ সেই মিছিলে গুলি চালালে আসাদ শহিদ
হয়।বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের  ৬ দফা দাবীর স্বপক্ষে এবং আগরতলা
ষড়যন্ত্র মামলায়  অন্যান্য আসামিদের  মুক্তি দাবীর আন্দোলনে আসাদের
মৃত্যু পরিবেশকে আরো ঘোলাটে করে তুলে ও গুরুত্বপূর্ণ ঘটনায় রূপান্তরিত
হয়। ২০ জানুয়ারি শহীদ আসাদের রক্তের সিঁড়ি বেয়ে সারাদেশে আন্দোলনের
আগুন আরও তীব্র হয়ে জ্বলে ওঠে। আর শহীদ আসাদের আত্মদানের পর
২১, ২২ ও ২৩ জানুয়ারি শোক পালনের মধ্য দিয়ে ২৪ জানুয়ারি সর্বস্তরের
মানুষের অংশগ্রহণে গণঅভ্যুত্থানের সৃষ্টি হয়েছিল।
২৪ জানুয়ারি ঢাকায় আবার মিছিল হয় এবং সেদিন পুলিশ গুলি করলে
নিহত হন মতিউর রহমান মল্লিক।  । জনতার রুদ্ররোষ এবং গণঅভ্যুত্থানের
জোয়ারে স্বৈরাচারী আইয়ুব সরকার আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার প্রধান
অভিযুক্ত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ সকলকে মুক্তি দিতে বাধ্য হয়।
পতন ঘটে আইয়ুবের স্বৈরতন্ত্রের। অপশাসন ও শোষণের বিরুদ্ধে সংগ্রামে
তাই ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান এখনও দেশের মানুষকে অনুপ্রাণিত করে।

বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান এক
তাৎপর্যপূর্ণ মাইলফলক।
এই আন্দোলন শুধু ছাত্র বা রাজনৈতিক কর্মীদের মধ্যে নয়, বরং কৃষকদের
মধ্যে, শ্রমিকদের মধ্যে, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়েছিল
– ফলে তা হয়ে উঠেছিল গণঅভ্যুত্থান।
বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন, বাঙালির মুক্তির সনদ ৬ দফা, পরবর্তীতে ১১ দফা
ও ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের পথ বেয়েই রক্তাক্ত সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে
এদেশের মানুষ অর্জন করে মহান স্বাধীনতা।

 

লেখকঃ মাসুদ রানা 

শিক্ষার্থী, রয়েল মিডিয়া কলেজ, ময়মনসিংহ। 
সদস্য, জামালপুর-৩ আসন, 
বাংলাদেশ প্রজন্ম সংসদ। 
Alert! This website content is protected!