বি.দ্রঃদৈনিক নতুন ভাবনাপত্রিকায় প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার সম্পূর্ন লেখকের/প্রতিনিধির।আমরা লেখক প্রতিনিধির চিন্তা ও মতামতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল।প্রকাশিত লেখার সাথে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল সবসময় নাও থাকতে পারে।তাই যে কোনো লেখার জন্য অত্র পত্রিকার কর্তৃপক্ষ দায়ী নয়।

তাজা খবর

স্বাধীনতার ৪৯ বছরেও স্বীকৃতি পাননি লালপুরের বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুু বক্কর

মো. আশিকুর রহমান টুটুল, নাটোর প্রতিনিধি:-
স্বাধীনতার ৪৯ বছরেও স্বীকৃতি পাননি লালপুরের বীর মুুক্তিযোদ্ধা আবু বক্কর। ১৯৭১ সাল দেশে শুরু হয় মুক্তিযুদ্ধ। দেশ স্বাধীনের জন্য জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ডাকে যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েন লালপুর উপজেলার গৌরপুর গ্রামের নৈইব উদ্দিনের ১৮ বছরের তরুণ ছেলে আবু বক্কর। দেশ স্বাধীন হয়েছে ৪৯ বছর কিন্ত আজ মেলেনি তার স্বীকৃতি। ১৫ বছর যাবত মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি পেতে দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন তিনি। পাননি সরকারী কোন সুবিধা।
সরেজমিনে তার বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, প্রায় শারিরিক প্রতিবন্ধী হয়ে অসুস্থ অবস্থায় বিছানায় শুয়ে আছেন আবু বক্কর। প্রায় ১০ বছর আগে স্ট্রোক করে বাম হাত ও বাম পা অবশ হয়ে গেছে। কোন রকমে খুড়িয়ে চলা ফেরা করেন তিনি। জানতে চাইলে দুঃখভরা কন্ঠে তিনি বলেন,‘১৯৭১ সালের এপ্রিল মাসে কাতলাবাড়ি শেখ পাড়া প্রাথমকি ক্যাম্পে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে যোগদান করেন তিনি। সেখানে  ১৪দিন থাকার পরে তিনি ভারতের মুর্শিদাবাদ পানিপিয়া ইউথ ক্যাম্পে ব্রেভো কোম্পানিতে ক্যাপ্টেন আর কে শার্মার আন্ডারে যোগদান করে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। তার রাইফেলে নম্বর ৩০৩। সে সময় ক্যাম্প ইনর্চাজ ছিলেন তৎকালীন ছাত্র নেতা ও বর্তমান নাটোর-৪ আসনের সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক আব্দুল কুদ্দুস এমপি। তার পর থেকে দেশে পাক হানাদার বাহীনর বিরুদ্ধে যুদ্ধকরে দেশ স্বাধীন করেন।
পরে যে কোন ভাবে ১৯৯৬ সালে তালিকা থেকে তার নামটি বাদ পড়ে। দ্বারে দ্বারে ঘুরেও তার নাম মুুক্তিযোদ্ধা হিসেবে লিপিবদ্ধ করতে পরেন নি তিনি। পরে  ২০১৭ সালে বর্তমান সরকার বাদপড়া  মুক্তিযোদ্ধাদের নতুন করে লিপিবদ্ধ হওয়ার সুযোগ দিলে। তিনি আবারো অনলাইনে আবেদন করেন। কিন্তু বিধিবাম। যাচাই বাছাইয়ের সময় তিনি ১৫টি প্রত্যায়নপত্রসহ ভারতীয় ইউথ ক্যাম্পের ডিএফএফ সার্টিফিকেট প্রদান করেন। কিন্তু বিভিন্ন তাকে আবারো বাদ দেন যাচাইবাছাই কমিটি। পরে তিনি জাতীয় মুুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলের নিকট একটি আপিল করেন।’
তিনি আরো বলেন, ‘দুই ছেলে দুই মেয়েসহ ৬ সদস্যর সংসার তার। দীর্ঘ ৪৯ বছরে একটি টাকাও সাহায্য জোটেনি। কিন্তু দেশের জন্য যুদ্ধ করেছেন অথচ কোনো সরকারই আমাদের মনে রাখেনি, দেয়নি মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতিও। তার একটিই ইচ্ছা মৃত্যুর আগে মুক্তিযোদ্ধা স্বীকৃতি নিয়ে তিনি মৃত্যুবরণ করতে চান।

Alert! This website content is protected!